জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের কাপনাকান্দি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে আপন ভাতিজার হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার এক মাস পর মারা গেছেন মনোফর আলী (৭০)। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
Manual4 Ad Code
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মনোফর আলীর মালিকানাধীন রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তার আপন ভাতিজা রাহিম আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মনোফর আলীর বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে রাহিম আলী ধারালো দা দিয়ে মনোফর আলীর মাথায় কোপ দেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাফিয়া বেগম মুগুর দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে রাজিয়া বেগম ও নাইমা বেগম লাঠি ও বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
Manual3 Ad Code
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা শেষে। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আল আমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
হামলার ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ মোছা. শিপা বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাহিম আলী, সাফিয়া বেগম, রাজিয়া বেগম, নাইমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়। আহত অবস্থায় মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৬ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছিল। এখন মনোফর আলীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় রূপান্তরের কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Manual1 Ad Code
জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আল আমিন বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন নারী আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুইজন আসামি আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন এবং প্রধান আসামি রাহিম আলীসহ আরও দুইজন এখনও পলাতক। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ’