অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ: অধিকাংশ বাতিলের আশঙ্কা
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ: অধিকাংশ বাতিলের আশঙ্কা
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
Manual6 Ad Code
সদ্য বিদায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে মোট ৫৫৫ দিন। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ছুটি ছিল ২৩৫ দিন। অর্থাৎ মোট ৩২০ কর্মদিবস দায়িত্ব পালন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অল্প সময়ের দায়িত্ব পালনেই অন্তত ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রায় আড়াই দিনে একটি করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এটি অতীতের অনির্বাচিত সরকারগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
Manual1 Ad Code
সংবিধান অনুসারে কোনো অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে পাস করা না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সংসদকে গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
Manual4 Ad Code
বিশেষজ্ঞদের মতে এসব অধ্যাদেশের অধিকাংশ বাতিল হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বেশ কয়েকটির বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে জারি করা ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’, গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘দায়মুক্তি’ শিরোনামের ধারা ২২, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পুলিশ বাহিনীর পুনর্গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতাগ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের বৈধতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের দায়মুক্তি প্রদান ও সাংবিধানিক ভিত্তি না থাকা অধ্যাদেশগুলোর বৈধতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাংবিধানিক প্রশ্নে বিতর্কিত অধ্যাদেশগুলো বাতিলও হতে পারে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওই বছরের ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। প্রথম কর্মদিবস হিসেবে ১১ আগস্ট রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের দায়িত্ব পালন শুরু হয়। ২০২৪ এর ১১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৩ দিনের মধ্যে সাপ্তাহিক ও সরকারি বিভিন্ন ছুটিসহ মোট ৫৭ দিনের ছুটি বাদ দিয়ে ৮৬ কর্মদিবসে ১৭টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। গত বছর ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১০৪দিন সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ৫৭দিন ছুটিসহ মোট ১৬১ দিন ছুটি ছিল। মোট ২০৪ কর্মদিবসে জারি করা হয় ৮০টি অধ্যাদেশ। চলতি বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৭ দিনের মধ্যে সাপ্তাহিক ও সরকারি মিলিয়ে ১৭ দিনের ছুটি ছিল। মাত্র ৩০ কর্ম দিবসে ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের শেষ সময়ে দিনে গড়ে একটিরও বেশি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। যা অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
Manual1 Ad Code
এর আগে ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ এর ১১ জানুয়ারি থেকে ২০০৯ এর ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২২টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরে নবম জাতীয় সংসদে ১২২টি অধ্যাদেশকেই একসঙ্গে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৫৪টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়। বাকিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘প্রথমত দায়মুক্তির অধ্যাদেশগুলো সংবিধান পরিপন্থি। সংবিধান পরিপন্থি অধ্যাদেশ সংসদে পাস হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কোনোটি সংসদে পাস হলেও সেটি আবার আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখ পড়বে। ফলে সেটি আটকে যেতে পারে। অতীতেও অনেক অধ্যাদেশ নানাভাবে বাতিল হয়েছে। আবার সংবিধানের বিতর্কিত সংশোধনীও উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে। ফলে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান পরিপন্থি ও বিতর্কিত অধ্যাদেশগুলো টিকবে না।’