প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

প্রত্যাহার হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিসিরা

editor
প্রকাশিত জুলাই ৮, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
প্রত্যাহার হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিসিরা

Manual6 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual3 Ad Code

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া ডিসি বা জেলা প্রশাসকদের প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অনেককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিতর্কিত ডিসিদের প্রত্যাহার করা হবে। কবেনাগাদ ডিসিদের প্রত্যাহার করা হবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সরাসরি কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিসি নিয়োগের বিষয়টি ছিল বিতর্কিত।
তখন জনপ্রশাসন সচিব পদে ছিলেন ড. মোখলেস উর রহমান। অনেকটা তড়িঘড়ি ফিটলিস্ট তৈরি করে একসঙ্গে ৫৯ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় এই নিয়োগ বাতিল চেয়ে নজিরবিহীনভাবে সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেন ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তারা। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ৯ জন কর্মকর্তাকে পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভও হয়। নিয়োগে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে অন্তর্বর্তী সরকারকে। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতার আসার পরে মাঠ প্রশাসনে ডিসি নিয়োগে স্বচ্ছতা এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

নতুন ডিসি নিয়োগে ২৮তম ও ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয় গত এপ্রিলের প্রথমার্ধে।
কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একাধিক জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগের সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

Manual6 Ad Code

জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। পরে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির ১০ দিন পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি মু. রেজা হাসান।

গত ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর রেজা হাসান কুমিল্লার ডিসির দায়িত্ব ছাড়লেও সিলেটে আর যোগ দেননি।

ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও কী কারণে তিনি ওই পদে এখনো যোগ দেননি, এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্যও দিতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, এ বিষয়ে (ডিসির যোগদান করা কিংবা না করা) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।

Manual4 Ad Code

তবে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মু. রেজা হাসানের নিয়োগের বিষয়টি স্থানীয় একজন মন্ত্রীর মনঃপূত হয়নি। বিষয়টি তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন। এ অবস্থায় সিলেটে আবার নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আসলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত ও এনসিপির সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের প্রত্যাহার করা হতে পারে। এরই মধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে।’

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যেকোনো রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত রাখা হচ্ছে এবং মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করার নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

এ ছাড়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ২০২৫ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী সরকারি অফিসগুলোতে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি এবং শূন্য পদ রয়েছে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। এসব শূন্য পদ পূরণে সরকার এরই মধ্যে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।

কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ’-এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য এবং নিয়োগের অধিযাচন প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের বিষয়ে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সব মন্ত্রণালয়/বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

গত ১ এপ্রিল দেশের চার জেলার ডিসি প্রত্যাহার করেছে সরকার। তাঁদের প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। যাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে তাঁরা হচ্ছেন পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, ঠাকুরগাঁওয়ের ইশরাত ফারজানা, রংপুরের মোহাম্মদ এনামুল আহসান ও রাজবাড়ীর সুলতানা আক্তার। তাঁদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। আর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজবাড়ীতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির পরিচালক (উপসচিব) আফরোজা পারভীনকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হককে ঠাকুরগাঁওয়ে, একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলামকে পাবনায় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে রংপুরে।

এরপর গত ১ মার্চ দেশের পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে তাঁদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এঁরা হচ্ছেন গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ।

গত বছর নভেম্বরে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২৩ জেলায় ডিসি পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করে অন্তর্বর্তী সরকার।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code