রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
editor
প্রকাশিত জুলাই ৮, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মায়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনা চালানোর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে প্রত্যাবাসনের ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভ্যারিফিকেশন) কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো এবং বিকল্প কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
Manual6 Ad Code
বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।
Manual1 Ad Code
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয়— সব ফ্রন্টেই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে সে সময়ের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হয়েছিল এবং আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে পেরেছিল।
বর্তমান সরকারও সেই নীতির ধারাবাহিকতায় টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে এবং মানবিক সহায়তা আরো জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করে।
সংসদ নেতা আরো জানান, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
এর ফলে রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরো বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে আরো কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। এ কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপক্ষীয় ফ্রন্টে মায়ানমারের মূল জান্তা সরকারের পাশাপাশি সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি কনফিডেন্স বিল্ডিংয়ের অন্যান্য প্রক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
Manual3 Ad Code
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই বা ভ্যারিফিকেশনের কাজ নিয়মিত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।