প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিদ্যুৎ বিলে ‘ডাকাতি’

editor
প্রকাশিত জুলাই ২৮, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বিদ্যুৎ বিলে ‘ডাকাতি’

Manual7 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

জাপান গার্ডেন সিটির পাশেই অবস্থিত ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) এনওসিএস আদাবর ডিভিশনাল কার্যালয়। গত রোববার এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হলো সেখানে। নিজেকে উত্তর আদাবরের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে তিনি বললেন, “অস্বাভাবিক বিল বিষয়ে অভিযোগ দিতে এসেছিলাম।”

আরও জানালেন, তার অ্যাপার্টমেন্টের কমন মিটারে আগে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা বিল আসত। গত দুই মাস ধরে সেটা ৪০ হাজার টাকার ওপরে আসছে। গত কয়েক দিন ধরে আসছি, কিন্তু কোনো প্রতিকারই পাচ্ছি না।

 

প্রায় একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কেরামত উল্লাহ বিপ্লবের। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে গত জুন মাসে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লিখেছিলেন, ‘বিদ‍্যুৎ বিভাগের কী হলো !! ডিপিডিসিকে প্রতিমাসে গড়ে বিল দেই ২-৩ হাজার টাকা। জুন মাসে হঠাৎ তাদের বিল এসেছে ৭ হাজারের বেশি। মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় নাকি শত শত গ্রাহকের এ অবস্থা। সোশ‍্যাল মিডিয়ায় দেখছি দেশের আরও কিছু এলাকায় এমন হয়েছে। জোন অফিসগুলোতে গ্রাহকদের ভিড়। কেউ জবাব দিচ্ছেন না, অভিযোগ নিচ্ছেন না। আমার সাথে ফেসবুকে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন অনেকেরই পুরনো বন্ধুত্ব। প্লিজ, এটা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খোলাসা করুন কী হয়েছে …।’

 

উত্তর আদাবরের ওই ভুক্তভোগী বাসিন্দা কিংবা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সুখ্যাতি পাওয়া এই সাংবাদিকই শুধু নন, আরও অনেক গ্রাহকই বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে গত কয়েক মাস ধরে এমন অস্বাভাবিক বিল পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত জুন মাসেও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাদের। তখন তোলপাড় উঠেছিল সারা দেশে। রাজধানীসহ দেশের কোনো কোনো জায়গায় বিক্ষোভ এবং মানববন্ধনও করেছিলেন সাধারণ গ্রাহকরা।

এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয় কারণ উদঘাটনের। পাশাপাশি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস অথবা নির্ধারিত হটলাইনে অভিযোগ জানানোর। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের পরও ভুতুড়ে বিলের আছড় থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। এমনকি বিভিন্ন ডিভিশনাল কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না। বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো অবস্থানগত সক্ষমতা রয়েছে এমন অনেকে ক্ষেত্রবিশেষে সমস্যার সমাধান পেলেও অধিকাংশ সাধারণ গ্রাহকই হচ্ছেন উপেক্ষিত ও নীরব ভুক্তভোগী। ডিভিশনাল কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘মিটারে বিল বেশি আসলে আমরা কী করব?’Ñএমন বক্তব্য দিয়ে দায় সারছেন।

 

বিল করার ক্ষেত্রে নেই পেশাদারত্ব

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কেরামত উল্লাহ বিপ্লব বলেন, “একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবে বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করছি। সংসারের জন্য আমাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা করে বাজেট করা থাকে। ধরেন আমার বিদ্যুৎ বিল গড়পড়তা আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা আসে। সেটা যদি হঠাৎ করে সাত আট হাজার টাকা হয়ে যায়, তাহলে এটা পরিশোধ করা তো আমার জন্য খুবই কঠিন। আমি মোহাম্মদপুরের আদাবর অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানালেন, আপনার বিল ঠিকই আছে, তবে আপনার বিলটা অ্যাডজাস্ট করা হয়েছে। অ্যাডজাস্ট বলতে কী বোঝাচ্ছেন, জানতে চাইলে তারা বললেন, আগে আমাদের মিটার রিডাররা বিল খানিকটা কম করেছিল। এখন জুন মাস অনুযায়ী সেটা একবারে অ্যাডজাস্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার কাছে খুবই অপেশাদার এবং অনৈতিক মনে হয়েছে। সরকারের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কীভাবে অপেশাদার মানুষজন দিয়ে এই বিলিংগুলো করাচ্ছে! তাদের উচিত প্রতিমাসে গ্রাহকের বিল যথাযথভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া এবং সেই অনুযায়ী বিল আদায় করা। জানতে পেরেছি, একজন মিটার রিডার তিন-চারজন করে সহকারী রাখেন। আমি খুবই বিড়ম্বনার স্বীকার হয়েছি। আমার মনে হয়, এই পদ্ধতিতে কোনো পেশাদারত্ব নেই। বিষয়গুলো নিয়ে সরকার এখনই সচেতন না হলে মানুষের মধ্যে জনবিস্ফোরণ বা বিক্ষোভ তৈরি হতে পারে।”

৮০০ টাকার বিল এ মাসে এসেছে ২৬০০

ভুতুড়ে বিলের কবলে পড়েছেন কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা উত্তর পাড়া বিক্রামপুর গার্ডেনের বাসিন্দা হারুন হাজী। আগের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল এসেছে তার বাসার মিটারগুলোতে। যে মিটারে গত মাসে ৮০০ টাকা বিল এসেছিল, সেই একই মিটারে এবার এসেছে ২৬০০ টাকা। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। তাই বলে বিল তিনগুণ আসছেÑ এটা কেমন কথা। বিষয়টি নিয়ে তিনি গত রবিবার ডিভিশনাল অফিসে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি। কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের কিছু করার নেই আবার বড় ধরনের বিলের জটিলতায় পড়েছেন এমন অনেক গ্রাহককে ‘আগামীতে বিল কম আসবে’ এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কারও কারও কাছ থেকে এমন প্রতিশ্রুতির জন্য অসাধু কর্মকর্তারা অর্থও নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরুপায় হয়ে গ্রাহকদেরও ওই পথে হাঁটতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুতুড়ে বিলের অভিযোগগুলো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কারিগরি টিম করে তদন্ত করা উচিত।

প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা

গত জুন মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা প্রতি ইউনিট ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বা প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ানো হয়। দাম বৃদ্ধি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন ধাপের (স্লাব) গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম ১৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে । নতুন এ দাম জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

অধিকাংশ গ্রাহকেরই অভিযোগ, সরকারের এমন ঘোষণার পর মে মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল, যেটা জুন মাসে আসে, সেটিতে মাত্রাতিরিক্ত বিল এসেছে। এ নিয়ে বিক্ষোভ ধূমায়িত হতে থাকলে সরকারের পক্ষ থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখার ও বিল বেশি আসার কারণ উদঘাটনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস অথবা নির্ধারিত হটলাইনে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হলেও অধিকাংশ গ্রাহক প্রতিকার পাচ্ছেন না। কাজটি সমন্বয় করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ সানাউল হক। কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অপারগতা পোষণ করেন।

তবে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক অপারেশন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রবিউল হাসান বলেন, “অতিরিক্ত বিল আসার সুযোগ নেই। অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিল আগের থেকে বেশি হচ্ছে। প্রায় ১৯ লাখ গ্রাহকের মধ্যে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকতে পারে। তবে আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আসছে আমরা তা খতিয়ে দেখছি এবং সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা করছি।”

প্রসঙ্গত, রাজধানীকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিল সংগ্রহের কাজ করে ডিপিডিসি ও ডেসকো। ডিপিডিসি মূলত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় এবং ডেসকো উত্তর ঢাকা ও টঙ্গী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ডিপিডিসি ৩৬টি ডিভিশনের মাধ্যমে এই কাজ করে। জানা গেছে, ডিপিডিসির আওতাধীন বনশ্রী, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, মগবাজার, পরীবাগ, আদাবর ও বাংলাবাজার এলাকায় ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ বেশি। এর মধ্যে আদাবর ও মগবাজার ডিভিশনে এই অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।

বর্তমানে দেশে ৬টি বিতরণ কোম্পানির প্রায় ৫ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে আরইবির গ্রাহক প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫৮ হাজার। মোট গ্রাহকের ৫৫ লাখ প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীÑ যাদের ক্ষেত্রে মিটারে ত্রুটি ছাড়া ভুতুড়ে বিলের সুযোগ কম। বাকি যে বিপুলসংখ্যক পোস্টপেইড গ্রাহক রয়েছেন, সেখানেই মূলত বিলে কারসাজি হয়। ডিপিডিসি ও ডেসকোর অধীনে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড দুই ধরনের গ্রাহকই রয়েছেন। তবে বেশিরভাগ পোস্টপেইড গ্রাহকই আরইবির। সংস্থাটি দেশজুড়ে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

সারা দেশেই একই চিত্র

Manual8 Ad Code

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু রাজধানী নয়, বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে সারা দেশেই এমন ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে ‘ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল’-এর অভিযোগ। একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল আসায় চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা।

জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এবং উত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাহকদের মধ্যে এ অভিযোগ ব্যাপক।

আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের বাসিন্দা তাসলিমা বলেন, “বিল সংশোধনের আবেদন করলেও দ্রুত সমাধান পাওয়া যায় না। একাধিকবার অফিসে যেতে হচ্ছে। সময় ও অর্থ দুটিই নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে চলি, তারপরও কীভাবে এত বিল আসে বুঝতে পারি না। এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”

এদিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলকে কেন্দ্র করে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। গতকাল সোমবার দুপুরে হিলি পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ জানাতে অসংখ্য গ্রাহক ভিড় করেছেন সহকারী মহাব্যবস্থাপকের (এজিএম) কক্ষের সামনে। প্রায় সবার হাতেই আগের ও বর্তমান মাসের বিল। একের পর এক গ্রাহকের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ ব্যবহার না বাড়লেও বিল এত বাড়ল কীভাবে?

Manual7 Ad Code

হাকিমপুর উপজেলার ১নং খট্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। দুই মাস আগেও আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ টাকার মধ্যে। গত মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার সাতশ টাকা, আর চলতি মাসে এসেছে সাত হাজার টাকারও বেশি। আমাদের ব্যবহারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাহলে এই অতিরিক্ত বিল কোথা থেকে এলো?’

এদিকে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল প্রত্যাহার, সঠিক বিল প্রণয়ন এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। গত রবিবার সকালে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর দেওয়া স্মারকলিপির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে অতিরিক্ত (ভুতুড়ে) বিদ্যুৎ বিল পুনঃযাচাই করে ভুল বিল অবিলম্বে বাতিল ও সংশোধনসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

Manual5 Ad Code

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, “বহুদিন ধরেই এই ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ আসছে। এগুলো নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একটা কারিগরি মূল্যায়ন হওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) পদক্ষেপ নিতে হবে। সব পক্ষকে নিয়ে একটা কমিটি করে দেওয়া দরকার। সেই কমিটি শুনানি করে সরকারকে রিপোর্ট দেবেÑ যার ওপর ভিত্তি করে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বিইআরসি সেই পদক্ষেপ না নিয়ে জনঅসন্তোষ বেড়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বহুদিন দিন ধরে মানুষ দাবি জানিয়ে এলেও সেটা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। বিষয়টি উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।”

Manual4 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code