গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুসারে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিদ্যমান সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
Manual7 Ad Code
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দল থেকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। সে ক্ষেত্রে এই নির্বাচনে সংসদে কোনো ভোটাভুটি ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে, যেভাবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
Manual2 Ad Code
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে গত রবিবার সিইসির কার্যালয়ে সব নির্বাচন কমিশনার ও সিনিয়র সচিবদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২৮ জুলাই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন সিইসি। নিয়ম অনুযায়ী, এখন সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা তথা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এর ভিত্তিতে ইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হলে গোপন ব্যালট ভোটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে এবং একক প্রার্থী হলে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে একক প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি। প্রকাশিত গেজেটের ভিত্তিতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন স্পিকার।
Manual5 Ad Code
রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে–বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য থাকা যাবে না। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পদ ছাড়তে হবে। দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে থাকা যাবে না।
Manual6 Ad Code
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় শাসনের উভয় ব্যবস্থার কারণে বহুবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিল অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে (পরোক্ষ ভোট)। পরে ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জনগণের ব্যালট ভোটের (প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি) বিধান চালু করা হয়। এরপর ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর সংসদ সদস্যদের ভোটে অর্থাৎ পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান চালু করা হয়। সেই থেকে সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে বা জনগণের পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়ে আসছে।