প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দেশে ৬৩ লাখ বেকারের ৮৭ শতাংশ শিক্ষিত

editor
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১২, ২০২৪, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
দেশে ৬৩ লাখ বেকারের ৮৭ শতাংশ শিক্ষিত

Manual7 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬৩ লাখই বেকার। আর এই বেকারদের ৮৭ শতাংশই শিক্ষিত বেকার। আর ২১ শতাংশ বেকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েও কোনো কাজে যুক্ত নন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ-২০২৩-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য বলছে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণেরাই বেশি বেকার, যার সংখ্যা ৩৮ লাখ। তাঁরা কোনো কাজকর্ম না করেই বছরের পর বছর চাকরির পেছনে ছুটছেন।

 

এ বিষয়ে বিবিএসের উপপরিচালক আজিজা রহমান বলেন, ‘শ্রমশক্তি জরিপে এসডিজির সূচক, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব ও শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জরিপে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বেকারত্ব কমেছে। তবে উচ্চ শিক্ষিত বেকার বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করি, সরকার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুসারে, দেশে বর্তমানে ৬২ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ বেকার রয়েছে। এই বেকারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগ হচ্ছে, কাজ করতে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন এবং সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন। এ রকম মানুষের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৫ হাজার, যা মোট বেকারের ৪১ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দ্বিতীয় ক্যাটাগরি হলো, সব যোগ্যতা রয়েছে। তারপরও সপ্তাহে ৭ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করছেন। অর্থাৎ, যোগ্যতা ও চাহিদা অনুসারে কাজ করতে পারছেন না। এমন মানুষের সংখ্যা ২৪ লাখ ৬১ হাজার, যার মোট বেকারের ৩৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই ক্যাটাগরির উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একজন স্নাতক পাস শিক্ষার্থী টিউশনি করছেন। সপ্তাহে ৬ ঘণ্টা কাজ করছেন। কিন্তু, তাঁর যোগ্যতা রয়েছে ৪৮ কিংবা ৫৬ ঘণ্টা কাজ করার।

তৃতীয় ক্যাটাগরি হচ্ছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, কিন্তু চাকরি খুঁজছেন না। কিংবা চাকরি খুঁজছেন, কিন্তু চাকরির জন্য অতিরিক্ত যোগ্যতা প্রয়োজন, যা তাঁর নেই। এ রকম বেকারের সংখ্যা ১১ লাখ ৭১ হাজার, যা মোট বেকারের ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গত ১৫ বছরে দেশে কর্মসংস্থানহীন অর্থনীতির অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়ে দেশের বিনিয়োগের পরিবর্তে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এ কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়েনি। এ কারণে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে।

বিবিএসের এই জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেকার মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীরা। এরপরই রয়েছে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্নকারী এবং প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনো। বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম অশিক্ষিতদের মধ্যে। অর্থাৎ, যাঁরা পড়াশোনা করেননি, তাঁদের মধ্যে বেকার মানুষ কম।

Manual2 Ad Code

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনীতি ঢুকেছে, ফলে দিন দিন শিক্ষার মান কমছে। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব এবং কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষিত বেকার বাড়ছে।

 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়বুর রহমান বলেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি ১৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান আগের তুলনায় কমেছে। ফলে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে, কিন্তু চাকরিযোগ্য করতে পারছে না। এ ছাড়া শিক্ষায় যেরকম জব ক্রিয়েট হওয়ার দরকার ছিল, সে অনুসারে সরকারি ও বেসরকারি খাতে জব নেই। এই কারণে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে।

Manual2 Ad Code

বিবিএসের জরিপের তথ্যমতে, ৬২ লাখ ৫৭ হাজার মানুষের মধ্যে শিক্ষিত বেকার ৫৪ লাখ ১৭ হাজার। আর অশিক্ষিত বেকার ৮ লাখ ৪০ হাজার।

Manual4 Ad Code

শিক্ষিত বেকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় পাস করে বেকার হয়েছেন ১৩ লাখ ২৮ হাজার, মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাস করে বেকার ২০ লাখ ৫ হাজার, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় পাস করে বেকার ৭ লাখ ৭০ হাজার এবং স্নাতক পাস করে বেকার ১৩ লাখ ১৪ হাজার।

বিপরীতে এর মধ্যে অক্ষরজ্ঞানহীন ৭৬ হাজার মানুষ বেকার হয়েছেন। স্বাক্ষর জানেন তবে স্কুলের আঙিনায় পা রাখেননি—এমন মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ৬৪ হাজার।

Manual8 Ad Code

অশিক্ষিতদের তুলনায় শিক্ষিতরা বেকার বেশি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশই বেকার।

 

বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক এস এম জুলফিকার আলী বলেন, নারী ও গ্রামের শিক্ষার্থীর মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলক বেশি। তিনি বলেন, সারা দেশের কলেজগুলোর মানের ঘাটতি, শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার অভাব এবং চাকরির বাজারমুখী শিক্ষার অভাব সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

দেশের সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষম বা উৎপাদনশীল মানুষ হলেন তরুণেরা। জরিপে বলা হয়, ২০২৩ সালে প্রায় ৬৩ লাখ বেকার মানুষের মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বয়সী ৩৭ লাখ ৯৬ হাজার তরুণ। ৩০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ২৩ লাখ ৫১ হাজার মানুষ এবং ৬৫ বছর বয়সী ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ বেকার হয়েছেন। অর্থাৎ মোট বেকারের তিন ভাগের দুই ভাগই তরুণ।

অপর দিকে ২০২৩ সালের ৬২ লাখ ৫৭ হাজার বেকার মানুষের মধ্যে পুরুষ বেকার ৩৩ লাখ ৬২ হাজার। আর নারী বেকার ২৮ লাখ ৯৫ হাজার জন। ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপের বেকার ছিল ৬৭ লাখ ৬৩ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ছিল ৪০ লাখ আর নারী ছিল ২৭ লাখ ৬০ হাজার। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায় মহিলার তুলনায় পুরুষেরা বেশি বেকার ছিলেন।

এ বিষয়ে পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা না থাকায় পোশাক খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বড় পদে চাকরি করছেন ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান নাগরিকেরা। কিন্তু সরকার পক্ষ থেকে তার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code