ডিজিটাল ডেস্ক :
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক ড্যানিশ সদস্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
Manual4 Ad Code
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনসভায় গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আয়োজিত এক বিতর্ক চলাকালীন ড্যানিশ আইনপ্রণেতা অ্যান্ডার্স ভিস্টিসেন ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, ফ*** অফ’। ৩৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের এমন মন্তব্য সম্বলিত ভিডিওটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
Manual8 Ad Code
এনডিটিভি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের মুখে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে, এই ঘটনাটি তারই বহিঃপ্রকাশ।
ভিস্টিসেন তার বক্তৃতায় ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, গ্রিনল্যান্ড গত ৮০০ বছর ধরে ড্যানিশ রাজতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এমন ভাষায় বিষয়টি বলছি যা সম্ভবত আপনি বুঝতে পারবেন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, ফ*** অফ’।
Manual1 Ad Code
তার এই অশালীন মন্তব্যের পরপরই পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলা স্টিফানুটা তাকে বাধা দেন এবং সতর্ক করেন যে পার্লামেন্টের ভেতরে এ ধরনের ভাষা ব্যবহারের ফল মোটেও ভালো হবে না। যদিও পরে ভিস্টিসেন তার বক্তৃতার বাকি অংশ ড্যানিশ ভাষায় শেষ করেন, তবে তার এই কড়া প্রতিক্রিয়া আটলান্টিকের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক তিক্ততাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছেন, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত অগ্রগতি রুখতে গ্রিনল্যান্ডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প এই দ্বীপটি অধিগ্রহণের জন্য ডেনমার্কের ওপর চাপ বাড়াতে ইতিমধ্যেই ডেনমার্ককে সমর্থনকারী আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
Manual3 Ad Code
দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্পের এই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হার্ডলাইন অবস্থান এবং তার বিপরীতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই নজিরবিহীন ভাষা ব্যবহার বিশ্ব রাজনীতিতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রশাসন ডেনমার্ককে এই দ্বীপটি বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ডেনমার্ক সরকার শুরু থেকেই একে ‘উদ্ভট’ ও ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি কেবল একটি ভূখণ্ডগত দাবি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইউরোপীয় সার্বভৌমত্বের মধ্যে এক বিশাল সংঘাতের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।