ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করলো ট্রাম্প
ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করলো ট্রাম্প
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের কঠোর অবস্থান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে এসে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্কের হুমকি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, গ্রিনল্যান্ড এবং বৃহত্তর আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির কাঠামো’ (ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে তিনি কোনো ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন না। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনমনকে কিছুটা শিথিল করবে।
Manual3 Ad Code
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন যে, ন্যাটোর মহাসচিবের সঙ্গে হওয়া এই নতুন ফ্রেমওয়ার্ক যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র এবং সব ন্যাটো সদস্য দেশের জন্যই একটি চমৎকার সমাধান হবে।
Manual8 Ad Code
দাভোসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এই রূপরেখা মূলত নিরাপত্তা এবং খনিজ সম্পদসহ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। তবে চুক্তির কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও ন্যাটো মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের অর্থনৈতিক বা সামরিক প্রভাব বিস্তার রোধ করা। ট্রাম্পের এই সমঝোতার ইঙ্গিতে ইউরোপীয় দেশগুলো বড় ধরনের স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
Manual8 Ad Code
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান যে, গ্রিনল্যান্ড এবং পুরো আর্কটিক অঞ্চল সুরক্ষায় প্রেসিডেন্টের যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা কীভাবে কার্যকর করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব গ্রিনল্যান্ডের ওপর বহাল থাকবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
এর আগে ট্রাম্প ডেনমার্কসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ এবং জুন মাস থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, যদি তারা দ্বীপটি বিক্রির আলোচনায় রাজি না হয়। ডেনমার্ক সরকার বারবার গ্রিনল্যান্ডকে ‘বিক্রির জন্য নয়’ বলে ঘোষণা দিয়ে আসছিল এবং সতর্ক করেছিল যে জোরপূর্বক গ্রিনল্যান্ড দখল করার যেকোনো চেষ্টা ন্যাটোর মতো প্রতিরক্ষা জোটের অস্তিত্বকে বিপন্ন করবে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোক্কে রাসমুসেন ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং যুদ্ধংদেহী অবস্থান থেকে সরে আসায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব একটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা, যা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ডও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, সীমান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের অন্যায্য দাবিগুলো বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার মুখে পড়েছিল, তা অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল। এই সংকটের আপাতত অবসান ঘটলেও আর্কটিক অঞ্চলের খনিজ সম্পদ এবং কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।