নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শীতকালীন ঝড়ে বেশ কয়েকজন মারা গেছে এবং ঝড়ের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল কিংবা বিলম্বিত হয়েছে। সপ্তাহের শেষে এই ঝড় টেক্সাস থেকে শুরু করে মেইন পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়েছে, যার ফলে অনেক জায়গায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বড় বড় শহর ঘন তুষারে ঢেকে যায়।
দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত এক ডজন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কিছু এলাকায় কুড়ি ইঞ্চির মতো তুষারপাত হয়েছে।
ওদিকে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই শীতকালীন বা তুষার ঝড়ের কারণে দক্ষিণ অন্টারিওতে জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সপ্তাহের শেষেও যুক্তরাষ্ট্রের আবারো শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে পারে।
Manual1 Ad Code
সোমবার বিকেল পর্যন্ত টেনেসিতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। শহরের অধিবাসীরা প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে অন্ধকারে দিন কাটাতে বাধ্য হন।
“অনেক গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়েছে। বিদ্যুতের তারের কারণেও অনেক জায়গায় রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে,” নাশভিলে রেসকিউ মিশন হোমসের শেল্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জয় ফ্লোরেস বিবিসিকে বলছিলেন।
যারা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন তাদের কাছ ফোন কল গ্রহণ করছিল তার প্রতিষ্ঠান। তিনি জানান, রাস্তাঘাটে বরফ জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল, এমনকি তার নিজের বাড়িতেও গরমের কোনো ব্যবস্থা নেই, ইন্টারনেট ও কফি নেই।
নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত নিউইয়র্কেই মারা গেছে আট জন। এ সময়ে শহরের তাপমাত্রা এক ডিজিটের ঘরে নেমে আসে।
Manual7 Ad Code
আবহাওয়া বিভাগ সোমবার সকাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে ১১ দশমিক চার ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করেছে। টেক্সাসের পুলিশ জানিয়েছে সেখানে স্লেডিং দুর্ঘটনায় এক কিশোরী মারা গেছে এবং গুরুতর আহত আরেকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ওদিকে নর্থ ক্যারোলাইনার বানকম্ব কাউন্টিতে একটি সড়কের পাশে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত করে দেখছে যে এই মৃত্যু আবহাওয়া জনিত কারণেই হয়েছে কি-না।
এছাড়া লুইজিনিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র শীতের কারণে হাইপোথার্মিয়া আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
Manual1 Ad Code
ম্যাসাচুসেটস এর গভর্নর মাউরা হিলি তার অঙ্গরাজ্যের অধিবাসীদের সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন এই ঝড় এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং সোমবার সেখানে আরও এক থেকে পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে।
সোমবারও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমানযাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। তুষারপাতের কারণে বহু ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পাশাপাশি হাজারো ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
Manual7 Ad Code
ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনগুলোতে ১৯ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৯০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এরপরেও শিগগিরই স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে না। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকেই আবারো শীতকালীন একটি তুষারঝড় আঘাত হানার ‘সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে’।
শেষ পর্যন্ত এটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলজুড়ে তীব্র শীতের পাশাপাশি ‘বিস্তৃত ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত’ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, শীতকালীন এই ঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ কোনটি বা কোন এলাকায় এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে—তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে কানাডায় ঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কুইবেক আর অটোয়া অঞ্চলে। এর ফলে সেখানকার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে গেছে এবং অনেক স্কুলই বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
সিবিসির তথ্য অনুযায়ী, রোববার টরন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দরে ১৮ দশমিক এক ইঞ্চি (৪৬ সেন্টিমিটার) তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ওই এলাকার জন্য তুষারপাতের একটি নতুন রেকর্ড বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে।