নিউজ ডেস্ক:
ভারতের ঝাড়খণ্ডে থানার ভেতরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কর্মরত ১৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল অভিযুক্তসহ তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর রাতে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে পুলিশের সহায়তা চাইতে ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসাওয়ান জেলার গমহারিয়া থানায় যান ওই নারী।
Manual8 Ad Code
এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে থানার একটি কক্ষে অপেক্ষা করতে বলেন। একপর্যায়ে থানায় কর্মরত ওয়্যারলেস অপারেটর নীরজ লাকরা ওই কক্ষে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।
ঘটনার দুই দিন পর, গত ৩১ অক্টোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে গিয়ে থানার ভেতরেই একজন নারী কীভাবে যৌন সহিংসতার শিকার হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে মূল অভিযুক্ত ওয়্যারলেস অপারেটর নীরজ লাকরাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে বিশেষ তদন্ত দলের (এসআইটি) তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপপরিদর্শক মনোজ কুমার সাহু এবং কনস্টেবল সন্তোষ কুমার রাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতার তিনজনকেই আদালতের মাধ্যমে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
Manual7 Ad Code
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সময়মতো তথ্য না জানানোর অভিযোগে পর্যায়ক্রমে থানার ১৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তদের মধ্যে রয়েছেন দুই উপপরিদর্শক (এসআই), চার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), দুই হাবিলদার, একজন কনস্টেবল এবং অন্যান্য পদমর্যাদার ছয় পুলিশ সদস্য।
Manual3 Ad Code
এদিকে, ঘটনাটি তদন্তে সরাইকেলা মহকুমার পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) অনুভব ভরদ্বাজের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
Manual7 Ad Code
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকা কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।