স্টাফ রিপোর্টার:
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট যদি ইরানে কোনো ধরনের স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে চেচেন যোদ্ধারা দেশটিতে মোতায়েন হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত এই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা বাহিনী প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে তাদের এই প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। তারা চলমান এই সংঘাতকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে ‘জিহাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
Manual5 Ad Code
মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু আলোচনার মাঝপথে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর থেকে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকটের রূপ নিয়েছে।
Manual3 Ad Code
কাদিরভপন্থি এই যোদ্ধারা—যারা ‘কাদিরভতসি’ নামেও পরিচিত—জানিয়েছে, তারা এই লড়াইকে ‘শুভ ও অশুভের’ মধ্যকার এক লড়াই হিসেবে দেখছে এবং ইরানকে রক্ষা করাকে তাদের আদর্শিক দায়িত্ব বলে মনে করে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলার পর এখন ওয়াশিংটন একটি স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে চেচেন যোদ্ধাদের এই আগাম ঘোষণা যুদ্ধের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগে এই যোদ্ধা বাহিনী ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সম্মুখ সমরে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা তাদের সামরিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সম্পৃক্ততা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক চিঠিতে দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অঞ্চলে ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে।
Manual2 Ad Code
প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাভানি অভিযোগ করেছেন যে ইউক্রেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন সামরিক আগ্রাসনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের এই ধরনের হস্তক্ষেপ যুদ্ধের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং এতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।
Manual4 Ad Code
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইরানও বসে নেই এবং তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত এক মাসে মিনাবে ১৭০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় ইরানি জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
চেচেন যোদ্ধাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির খবর মূলত এই যুদ্ধকে কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি বৈশ্বিক প্রক্সি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আপাতত বিশ্ব সম্প্রদায় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে যে, শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী স্থল অভিযানে নামে কি না এবং চেচেন যোদ্ধারা সরাসরি রণাঙ্গনে যোগ দেয় কি না।