স্টাফ রিপোর্টার:
যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে তার দাবি, উভয় পক্ষ এখনো সমঝোতা থেকে বেশ দূরে রয়েছে।
তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে তারা ফের যুদ্ধ শুরু করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ইরানি স্পিকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
Manual8 Ad Code
ভাষণে গালিবাফ বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত আলোচনা এখনো থেকে অনেক দূরে। আমাদের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো অনেক ফাঁক রয়ে গেছে এবং কিছু মৌলিক বিষয় এখনো অমীমাংসিত।’
উল্লেখ্য, গালিবাফ ইরানের অন্যতম আলোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
গালিবাফ আরও দাবি করেন, যুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে এবং শুধু দাবিগুলো পূরণ হওয়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
Manual1 Ad Code
দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারীরা একটি স্থায়ী চুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং মূল বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোতে অগ্রগতির বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে গালিবাফ বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে বিজয়ী হয়েছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
Manual1 Ad Code
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে থাকি, তবে তা এই কারণেই যে তারা আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘শত্রুর প্রতিটি প্রচেষ্টা ছিল আমাদের ওপর তাদের দাবি চাপিয়ে দেওয়া। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, তাই এখানে আলোচনাও যুদ্ধের একটি পদ্ধতি।’
গালিবাফ বলেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং মনে করে দেশটি যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে পারে। তাই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইরানি বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ‘বোকামি’ ও ‘অজ্ঞতা’।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ তুলে না নেয়, তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিতভাবেই বন্ধ করা হবে। ইরান নিজে পার হতে পারছে না অথচ অন্যরা এই প্রণালি ব্যবহার করবে—তা অসম্ভব।’
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে গালিবাফ এবং ইরানের প্রতিনিধি দল রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এটি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ।
তবে এই আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমঝোতা প্রক্রিয়া এখনো চলছে। যদিও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বলেছেন, পরবর্তী আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।