স্টাফ রিপোর্টার:
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালব্য নগর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে আজ সকালে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ওই জ্বলন্ত ভবন থেকে আরও ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে পাঁচতলা বিশিষ্ট ‘মিকাসা ইন’ হোটেলের বেসমেন্টে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতীয় প্রধান সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির হাউজ খাস সংলগ্ন হাউজ রানি এলাকার অত্যন্ত সরু গলির ভেতরে অবস্থিত ওই পাঁচতলা হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন।
Manual5 Ad Code
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২৫টি কক্ষ বিশিষ্ট এই হোটেলটিতে অবস্থান করা অতিথিদের বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশি নাগরিক, যাঁরা মূলত উন্নত চিকিৎসা সেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন।
Manual5 Ad Code
আগুন লাগার সময় হোটেলের বেশিরভাগ অতিথিই তাদের কক্ষে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বিপদের খবর পেয়েই দ্রুত দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার এবং কুইক রেসপন্স টিমসহ একাধিক অগ্নিনির্বাপক ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠান।
হোটেলের রেস্তোরাঁয় কর্মরত প্রধান শেফ কেসর সিং আগুনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে জানান, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি যখন রান্নাঘরের একটি বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার চেষ্টা করেন, তখনই হঠাৎ করে চারদিকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার সহকারীকে নিয়ে কোনোমতে ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং দেখেন যে ততক্ষণে পুরো হোটেলটি আগুনের গ্রাসে চলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জীবন বাঁচাতে হোটেলের ভেতর থেকে কিছু মানুষ জ্বলন্ত ভবনের জানালা দিয়ে সরাসরি নিচে মাটিতে লাফিয়ে পড়ছেন।
Manual4 Ad Code
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ বলে আখ্যায়িত করে নিহতদের প্রত্যেক শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি জরুরি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।