প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বিয়ানীবাজারে এক শিক্ষকের প্রাইমারি স্কুল যেমন চলছে

editor
প্রকাশিত জুন ২৫, ২০২৬, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
বিয়ানীবাজারে এক শিক্ষকের প্রাইমারি স্কুল যেমন চলছে

Manual5 Ad Code

 

সামিয়ান হাসান:

অন্যান্য বিদ্যালয় যখন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর, ঠিক বিপরীত চিত্র বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নে অবস্থিত আব্দুল খালিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

Manual5 Ad Code

বিদ্যালয়টি চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে প্রতিনিয়ত। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন চরম দুর্ভোগে পড়েছে, তেমনি প্রতিবছর এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে ব্যাপক হারে।

জানা যায়, বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিশুরা এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শুরু থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় শতাধিক। বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা ৫ জন। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো পূর্ণসংখ্যক শিক্ষক ছিলেন না।

২০১৮ সালে প্রধান শিক্ষক অন্যত্র চলে গেলে আর কোনো শিক্ষক এখানে স্থায়ী হতে পারেননি। জোড়াতালি দিয়ে অন্য বিদ্যালয় থেকে কিছুদিনের জন্য একজন শিক্ষক দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি অতিথির মতো আসেন আবার অতিথির মতো চলে যান। ২০২২ সাল পর্যন্ত এভাবেই চলছিল পাঠদান। কিন্তু ৪ মাস পর প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে একজন শিক্ষক প্রবাসে চলে গেলে সমস্যায় পড়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। তখন থেকেই নুসরাত আফরিন নামে একজন সহকারী শিক্ষক পুরো বিদ্যালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকটের কারণে অভিবাবকরা তাদের সন্তানদের অন্যান্য প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ জন। বিগত ৪ বছর থেকে বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকসহ ৬টি শ্রেণির ২২ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের দায়িত্ব পালন করছেন নুসরাত আফরিন। একই সঙ্গে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করছেন। অফিসিয়াল কাজ, মাসিক সমন্বয়সভা বা উপজেলা সদরে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

Manual7 Ad Code

এ ছাড়া বিদ্যালয়ে কোনো দপ্তরি না থাকায় নুসরাত আফরিনকেই সকাল বেলা স্কুলের দরজা খোলা, পতাকা উত্তোলন, ঘণ্টা বাজানোসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়।

Manual1 Ad Code

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া জাহান আকছা জানায়, বৃত্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। একজন শিক্ষক সব বিষয়ে পড়াতে পারছেন না।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু বক্কর শিকদারের ভাষ্য, দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক শ্রেণিতে বসিয়ে পাঠদান করানো হয়। সেজন্য ঠিকমতো পাঠদানে মনোযোগ দেওয়া যায় না।

স্থানীয় অভিভাবক আব্দুল হাছিব শিকদার জানালেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তিত। বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে তারা। প্রতি বছর এই বিদ্যালয় ছেড়ে শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নুসরাত আফরিনের ভাষ্য, একজন শিক্ষক দিয়ে ৬টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্ভব নয়। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না দিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়বে। তাছাড়া আমি কোনো কারণে অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষক আসতে চান না।

বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ দাস জানান, দীর্ঘদিন থেকে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট। নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে এ বিদ্যালয়ে পদায়ন হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে শিক্ষক সংকটের কথা জানানো হয়েছে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code