ব্রাসিলিয়ার প্লানাল্টো প্রাসাদে বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর অনুষ্ঠানে লুলা স্পষ্ট ভাষায় প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্রাজিল শিরোপা জিতবে বলে তার বিশ্বাস। আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলে তাকে অত্যন্ত গম্ভীর ও সুসংগঠিত ব্যক্তি মনে হয়েছে। এই বক্তব্যে ইতালিয়ান কোচের প্রতি রাষ্ট্রীয় আস্থার বার্তা স্পষ্ট।
তবে আলোচনার কেন্দ্র তৈরি হয় লুলার পরের মন্তব্যে। তিনি বলেন, আনচেলত্তি বিশ্বাস করেন, কেবল শতভাগ ফিট খেলোয়াড়রাই খেলবে। নামের ভিত্তিতে কাউকে দলে নেওয়া হবে না। যে খেলছে, অনুশীলন করছে এবং প্রস্তুত, কেবল তাকেই ডাকা হবে। কোচ যদি কঠোর হন, খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে পারে।
৩৩ বছর বয়সী নেইমার সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তার অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সৌদি আরবে আল হিলালের হয়ে হতাশাজনক সময় কাটানোর পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন।
সান্তোসে ফেরার পর তিনি খেলেছেন ২১ ম্যাচ। ১৭টিতে ছিলেন শুরুর একাদশে। করেছেন আট গোল। দিয়েছেন একটি অ্যাসিস্ট। সাম্প্রতিক সময়ে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ২-১ জয়ে জোড়া গোল করে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেন। এই পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনায় এনেছে তাকে। তবু আনচেলত্তির মানদণ্ড পরিষ্কার। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর এসপোর্তে রেকর্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেইমারকে শতভাগ ফিট হতে হবে। শুধু নেইমার নন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও যদি ৯০ শতাংশ ফিট থাকেন, তবে তিনি শতভাগ প্রস্তুত অন্য কাউকে বেছে নেবেন।
সামনে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে উচ্চমানের প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই গভীরতাই নেইমারের পথ কঠিন করছে। চেলসির এস্তেভাও ও বোর্নমাউথের রায়ানের মতো তরুণরা উঠে আসছে। আনচেলত্তির বার্তা স্পষ্ট। খ্যাতি নয়, ফিটনেস ও ফর্মই আসল। মে মাসের শেষ দিকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে। তার আগে ২৬ মার্চ ফ্রান্স ও ৩১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা।





