প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর তিন পেসার সামলাতে কোন ওপেনিং জুটি খেলাবে বাংলাদেশ?

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর তিন পেসার সামলাতে কোন ওপেনিং জুটি খেলাবে বাংলাদেশ?

Manual4 Ad Code

 

ক্রীড়া ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার ভোরে বাংলাদেশের আকাশে সূর্য ওঠার এক ঘণ্টা পরই শুরু হয়ে যাবে বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট।

২০০৩ সালে যে মাঠে অসিদের সঙ্গে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল টাইগাররা, ২৩ বছর পর সেই ডারউইনেই স্বাগতিকদের সঙ্গে আবার টেস্ট খেলতে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

 

ক্রিকেটের মহাশক্তি, প্রবল প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কী করবে বাংলাদেশ? ২৩ বছর আগের মতো আবারও ইনিংস পরাজয়ই থাকবে সঙ্গী? এবারও গড়পড়তা ৩ দিনে খেলা শেষ হবে? নাকি টাইগাররা প্রতিরোধ গড়ে অন্তত ৪ দিন টিকে থাকবে? ব্যাটিং, না বোলিং? অসিদের সঙ্গে কোন ডিপার্টমেন্টে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে টাইগারদের?

Manual4 Ad Code

বেশিরভাগ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের ধারণা, জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক আর কামিন্সের সাজানো বিশ্বের এক নম্বর ফাস্টবোলিং আক্রমণ এবং নিখুঁত লাইন ও লেন্থে বল করায় পারদর্শী অফস্পিনার নাথান লায়নে গড়া অসি বোলিংটাই টাইগারদের সবচেয়ে বড় বাধা। সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজরা সেই বাধা কীভাবে অতিক্রম করেন; সেটাই দেখার।

 

সবার আগে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে ওপেনারদের। এমনিতেই বাংলাদেশের ব্যাটিং নড়বড়ে। এই তো কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।

ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে দুর্বল ও কমজোরি জায়গা হচ্ছে ওপেনিং। টাইগার ওপেনারদের অবস্থা খুব খারাপ। ইনিংস শুরুর পরপরই হুড়মুড় করে ভেঙে যাচ্ছে উদ্বোধনী জুটি।

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ যে ৩টি টেস্ট খেলেছে, তার একটিতেও শক্ত ও মজবুত ভিত পায়নি। ৩ টেস্টের ৬ ইনিংসে একবারের জন্যও একটি লম্বা পার্টনারশিপ গড়ে ওঠেনি। লম্বা জুটি তো বহুদূরে, প্রথম উইকেটে ৪০-৫০ রানও ওঠেনি।

 

এ বছর পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের মাটিতে দুটি আর জিম্বাবুয়েতে গিয়ে জিম্বাবুয়ানদের সঙ্গে একটি মিলে মোট ৩ টেস্টের ৬ ইনিংস ব্যাট করে বাংলাদেশের ওপেনাররা বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছে শুরুর পরপরই। এই ৬ ইনিংসে টাইগারদের ওপেনিং জুটিতে সর্বাধিক ২২ রান উঠেছে।

Manual4 Ad Code

এ বছর জুনে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২২। ওপেনার ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম।

Manual8 Ad Code

তার আগে গত মে মাসে ঘরের মাঠে সিলেটে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাহমুদুল হাসান জয় আর তানজিদ তামিমের জুটি ভাঙে রানের খাতা খোলার আগেই। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫-তে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।

 

তারও আগে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে (৮ মে শুরু) ঢাকার মিরপুরের শেরেবাংলায় পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাহমুদুল হাসান জয় আর সাদমান ইসলামের গড়া টাইগার উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ১৮ রানে। আর পরের ইনিংসে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে ১৫ রানে।

এই হলো এ বছর টিম বাংলাদেশের ওপেনারদের হালচাল। শুধু অল্প সময় ও সংগ্রহে উদ্বোধনী জুটি ভাঙাই নয়, এ বছর ৩ টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে যে ৩ জন ওপেনার খেলেছেন, তাদের মধ্যে সাদমান ইসলাম ছাড়া বাকি কারও পারফরম্যান্স আপ টু দ্য মার্ক নয়।

মাহমুদুল হাসান জয় (৮, ৫, ০, ৫২, ২, ২২) ৩ টেস্ট খেলে একবার পঞ্চাশে পা রেখে করেছেন ৮৯ রান।

 

সাদমান ইসলাম (৭ টেস্টের ১২ ইনিংসে ১২০, ১৪, ৭৬, ৪৬, ১২, ৮০, ৩৫, ৭৮, ১৩, ১০, ২০, ৯) একটি সেঞ্চুরি ও ৩ হাফসেঞ্চুরিতে ৫১৩ রান করে মোটামুটি উৎরে গেছেন। তবে অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এক টেস্টে (২৬+৪) খেলেও সুবিধা করতে পারেননি।

এখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাই সাদমান ইসলামের খেলা মোটামুটি নিশ্চিত। অপর ওপেনার হিসেবে কাকে বেছে নেবেন টিম ম্যানেজমেন্ট? তা নিয়েই জল্পনা-কল্পনা।

কেউ কেউ সাদমানের সঙ্গে সৌম্য সরকারের কথাও ভাবছেন। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাদমানের সঙ্গে তানজিদ হাসান তামিমকে খেলানো হবে।

 

টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনাটা এরকম, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বসেরা বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে দুই দিক থেকে ঠান্ডা মাথায় বলের মেধা ও গুণ বিচার করে রয়েসয়ে খেলার চেষ্টা করেও খুব সুবিধা হবে না। কারণ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, কামিন্স ও লিয়নরা আলগা বল করেন কম। তাদের বেশি সমীহ দেখিয়ে খেললে তারা আরও চেপে বসবেন।

যতদূর জানা গেছে, প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার চান টপ অর্ডারে এমন কাউকে খেলাতে, যার অন্তত রান করার ক্ষমতা আছে। সেই চিন্তা থেকেই তানজিদ তামিমকে খেলানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

সাদমান ঠান্ডা মাথায় খেলতে পারেন। হাতে স্ট্রোক খুব সীমিত। তবে নিজের সীমাবদ্ধতা জেনে ও বুঝে খেলার চেষ্টা করেন বলে তুলনামূলকভাবে সাদমানের ব্যাটে ধারাবাহিকতা বেশি। তাই তাকেই হয়তো এক নম্বর ওপেনার হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। সঙ্গে বাঁহাতি তানজিদ তামিমই ফার্স্ট চয়েজ।

 

Manual2 Ad Code

সহজাত স্ট্রোক প্লেয়ার তানজিদ তামিম। নিজের নাগালের মধ্যে বল পেলে চালিয়ে খেলতে পারেন। উইকেটের সামনে ও দুদিকে শট খেলার সামর্থ্য আছে। আলগা বল পেলে তা কাজে লাগানোর ক্ষমতাও আছে।

তাই জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, কামিন্স আর অফস্পিনার লায়নের সাজানো অস্ট্রেলিয়ার ক্ষুরধার বোলিংয়ের বিপক্ষে ধীরস্থির সাদমানের সঙ্গে আক্রমণাত্মক তানজিদ তামিমের গড়া ওপেনিং জুটিকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

দেখা যাক, অসি ক্ষুরধার বোলিংয়ের বিপক্ষে তারা কী করেন!

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code