বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি নরওয়ের মাত্র দ্বিতীয়বার নকআউট পর্বে ওঠার রেকর্ড। এর আগে ১৯৯৮ সালে প্রথমবার শেষ ষোলোতে খেলেছিল তারা। অন্যদিকে টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল সেনেগাল।
Manual3 Ad Code
ম্যাচের শুরু থেকেই সেনেগালকে চেপে ধরে নরওয়ে। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে ম্যাচের সিংহভাগ সময় বল দখলে (৫৮ শতাংশ) এগিয়ে ছিল আফ্রিকানরাই। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় ম্যাড়মেড়ে কাটলেও শেষ ৫ মিনিটে হঠাৎ ম্যাচের আবহ বদলে যায়। ৪৩ মিনিটে সেনেগাল অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢোকেন বদলি নামা মার্কাস পেডারসেন। নরওয়েকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন তিনি। এটি ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। এর পরপরই হলান্ডের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি নরওয়ে।
Manual4 Ad Code
বিরতি থেকে ফিরেই শুরু হয় হলান্ড-ম্যাজিক। ৪৮ মিনিটে পাল্টা-আক্রমণ থেকে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের পাস ধরে কুলিবালিকে বোকা বানিয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। তবে হাল ছাড়েনি সেনেগাল। ৫৩ মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকে দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন ক্রিস্টাল প্যালেসের ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার।
Manual6 Ad Code
গোল হজম করে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে নরওয়ে। ৫৮ মিনিটে বক্সে জটলার ভেতর থেকে বল পেয়ে সেনেগালের জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন হলান্ড। বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে তার গোল এখন চারটি।
ম্যাচের যোগ করা সময়েই জমে ওঠে নাটক। ৯৩ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্ট থেকে বক্সে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন সেনেগালের ইসমাইলা সার (৩-২)। শেষ মিনিটে হ্যাটট্রিক করার সুবর্ণ সুযোগ পেলেও সারের হেড পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে ৩-২ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে। এই জয়ের পর ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী সমীকরণ দাঁড়িয়েছে আগামী ২৭ জুনের নরওয়ে-ফ্রান্স ম্যাচের ওপর।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষ হওয়ার আগেই ইতিমধ্যে ছয়টি দল শেষ বত্রিশের টিকিট পাকা করে ফেলেছে। স্বাগতিক মেক্সিকো (গ্রুপ ‘এ’) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (গ্রুপ ‘ডি’) ছাড়া বাকি চার দল হলো জার্মানি (গ্রুপ ‘ই’), আর্জেন্টিনা (গ্রুপ ‘জে’) এবং ‘আই’ গ্রুপ থেকে ফ্রান্স ও নরওয়ে।