জকিগঞ্জ সংবাদদাতা:
সিলেটের জকিগঞ্জে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের আইনি লড়াই শেষে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি নেতা হাসান আহমদ। রবিবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ পাঠ করান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল আহমদ, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রহমত আলী হেলালীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
Manual2 Ad Code
এসময় জকিগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ জনগণও উপস্থিত থেকে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
Manual3 Ad Code
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জকিগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আফতাব আহমদকে নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ১৩৭ ভোট পাওয়ায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
Manual3 Ad Code
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা হাসান আহমদ চশমা প্রতীকে পান ২ হাজার ৯৭৮ ভোট। ব্যবধান ছিল মাত্র ১৫৯ ভোট। ফলাফল নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ভোট কারচুপির অভিযোগে পুনঃগণনার আবেদন করেন চশমা প্রতীকের প্রার্থী হাসান আহমদ।
Manual1 Ad Code
এরপর তিনি একই বছরের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা (নম্বর ০২/২০২২) দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারকের পুনঃগণনায় হাসান আহমদকে ৭৮ ভোটে এগিয়ে দেখে তার পক্ষেই রায় দেন।
এরপর গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়।
এদিকে, আইনি লড়াই শেষে গেজেটভুক্ত হয়ে অবশেষে চেয়ারে বসার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হাসান আহমদ বলেন, আদালতের রায়ে নির্বাচিত হয়ে আজ শপথ গ্রহণ করলাম—এটা আমার জীবনের একটি ঐতিহাসিক দিন। ভোটে জনগণ আমাকে বেছে নিয়েছিলেন, কিন্তু বিগত সরকারের অনুগত নির্বাচন কমিশন কারচুপি করে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করেছিল। শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই প্রতিষ্ঠিত হলো।
তিনি আরও বলেন, জকিগঞ্জ ইউনিয়নবাসী আমার শক্তি ও ভরসা। আমি বিশ্বাস করি—তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে আগামী দিনে আমি এই ইউনিয়নের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব।