বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল: আলোচনায় আবুল হোসেন
বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল: আলোচনায় আবুল হোসেন
editor
প্রকাশিত জুন ১২, ২০২৫, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
বড়লেখা সংবাদদাতা:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল ও সম্মেলন আগামী ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর কাউন্সিলকে ঘিরে কর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আবুল হোসেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আবুল হোসেনের আলাদা জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কর্মীদের প্রত্যাশা, দলের দীর্ঘ সময়ের এই নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে মূল্যায়ন করা হবে।
Manual6 Ad Code
জানা গেছে, আবুল হোসেন ছাত্র রাজনীতি দিয়ে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে তিনি একই ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় সৌদি আরবে পাড়ি জমালেও রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং সেখানে আছির প্রদেশ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায়ও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন নিয়মিতভাবে। দেশে ফেরার পর তিনি উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আবুল হোসেন একজন সৎ, দক্ষ এবং দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি নেতৃত্বে এলে দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করবেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখবেন।
Manual1 Ad Code
আলাপকালে আবুল হোসেন বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। প্রবাসেও রাজনীতি করেছি, দল ছাড়িনি। আজ ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দাঁড়িয়েছি। আশা করি দলের নেতাকর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবেন।
Manual8 Ad Code
তিনি বলেন, দল আমাকে মূল্যায়ন করলে আমার প্রথম কাজ হবে দলীয় ঐক্য পুন:প্রতিষ্ঠা করা। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ বিএনপি গঠন করবো। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করব। তরুণদের দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় করতে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও প্লাটফর্ম গঠন করবো। নারী নেত্রীদের নেতৃত্বে আনবো। মহিলা দল ও ইউনিয়নের নারী সদস্যদের সক্রিয় করতে আলাদা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবো। পরিষ্কার জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব গঠন করবো। প্রতিটি সিদ্ধান্তে কর্মীদের মতামতকে মূল্যায়ন করবো এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখবো। ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করব। প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির শক্তিশালী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের কাজ করবো। দুর্দিনের ত্যাগীদের এবং যারা কঠিন সময়ে দলের পাশে ছিলেন, তাদেরকে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করবো। সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো। দলকে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে মানুষের আস্থা অর্জন করবো। দলীয় কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করবো। কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী সকল আন্দোলন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবো। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রাজনৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ব। ছাত্রদল ও যুবদলের মাধ্যমে রাজনৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ ছড়িয়ে দেবো। সহনশীল ও সম্মানজনক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করব। ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে রাজনৈতিক চর্চা করবো।
উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বিতরণ ও গ্রহণের সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ জুন (শুক্রবার) সকাল ১১টায় মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হবে। একই দিন বিকেলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।