প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বড়লেখায় মানুষের চিকিৎসার জন্য ভবন, এখন গো- চারণভূমি!

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ণ
বড়লেখায় মানুষের চিকিৎসার জন্য ভবন, এখন গো- চারণভূমি!

Manual1 Ad Code

 

বড়লেখা প্রতিনিধি:

Manual8 Ad Code

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হয়েছিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হলেও ৫ বছর ৯ মাস পরও কার্যকরভাবে চালু হয়নি কেন্দ্রটি। জনবল সংকটে বন্ধ রয়েছে চিকিৎসাসেবা। উদ্বোধনের পর থেকে হাতেগোনা কয়েক দিন ভবনটি খোলা হয়েছে। বেশির ভাগ সময়ই তালাবদ্ধ থাকে।

অযত্ন ও অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন ও আশপাশের পরিবেশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রের মাঠে এখন অবাধে বিচরণ করছে গরু-ছাগল। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথে জন্মেছে ঘাস-আগাছা। বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। দেয়ালের রংও বিবর্ণ হয়ে গেছে।

বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে চারটি পদের মধ্যে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও আয়া—এই দুটি পদে জনবল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অপর দুটি পদ—উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও এমএলএসএস—অনুমোদন করা হয়নি। সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলামকে বর্ণি ও নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সপ্তাহে দুই দিন বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের কথা।

Manual8 Ad Code

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম সপ্তাহে এক দিন কেন্দ্রে আসেন। কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান। কোনো কোনো সপ্তাহে তিনি আসেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রবেশের প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভবনের প্রধান দরজায় তালা ঝুলছে। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথের আশপাশে ঘাস-আগাছা জন্মেছে। বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে গরু-ছাগল অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঠে ঘাস খাচ্ছে এসব গবাদিপশু। দীর্ঘদিনের অযত্নে ভবনের দেয়ালের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির সামগ্রিক পরিবেশ দেখে মনে হয়েছে, এটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জবলু বলেন, ‘সপ্তাহে এক দিন একজন আসেন। খুলেন, মানুষ আসলে বলেন ওষুধ নেই। এরপর আধা ঘণ্টা-৪০ মিনিট বসে চলে যান। আর কোনো খবর মেলে না। কোনো সপ্তাহে আসেন, কোনো সপ্তাহে আসেন না।’ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশের ময়লা-আবর্জনা দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। জবলু বলেন, ‘ভবনটি উদ্বোধনের সময় আমরা খুশি হয়েছিলাম। প্রতিদিন ডাক্তার থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ছয় বছর হলো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কোনো কাজে আসছে না। আমাদের বর্ণিতে অনেক নেতা, কিন্তু কাজের কোনো নেতা নেই।’

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যকরভাবে চালু না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, প্রসবপূর্ব সেবা, প্রসবকালীন সেবা, নবজাতকের পরিচর্যা, শিশুস্বাস্থ্য সেবা, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, সীমিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের মানুষ। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এভাবে দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

Manual8 Ad Code

বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা বলেন, ‘বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নতুন। এখানে পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। জনবল পাওয়া গেলে যথাযথভাবে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

Manual3 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code