বড়লেখায় গৃহবধূ মৃ ত্যু র ঘটনায় স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মা ম লা
বড়লেখায় গৃহবধূ মৃ ত্যু র ঘটনায় স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মা ম লা
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা ও ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
Manual2 Ad Code
গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা-এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা হয়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে থাকেন।
মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ওই টাকা দিয়ে লাভলু সৌদি আরবে গাড়ি কিনবেন বলে মুন্নিকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়।
Manual7 Ad Code
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুন্নিকে বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। একপর্যায়ে মুন্নির বাবা জামিনদার হয়ে তাঁর নামে একটি বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন। পরে ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে মুন্নির ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করা হয়।
Manual4 Ad Code
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন ২১ আগস্ট মুন্নিকে পিত্রালয় থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এ সময় নির্যাতনের কিছু অডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন মুন্নি। তাঁর মায়ের দাবি, স্বামীর কাছ থেকেও ফোনে হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়া হতো।
পরে ওই দিন দুপুরের দিকে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মুন্নির বাবাকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।
Manual8 Ad Code
মুন্নির মা রেনু বেগমের অভিযোগ, মেয়ের লাশ গোসল করানোর সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও তিনি মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের নির্যাতন, মানসিক যন্ত্রণা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে মুন্নি এ পথ বেছে নেন।
এর আগে মুন্নির বাবা মকবুল আলী বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা লিখিত অভিযোগ দেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।