প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে যাচ্ছেন তারেক রহমান, জোর প্রস্তুতি বিএনপির

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে যাচ্ছেন তারেক রহমান, জোর প্রস্তুতি বিএনপির

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ন মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর তার এই সফর শুধু একটি জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটিকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে নতুন করে সাংগঠনিক সক্রিয়তা, নেতৃত্বের দৃশ্যমানতা এবং মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি নগরীর ঐতিহাসিক রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশকে ঘিরে তাই চট্টগ্রাম বিএনপিতে বিরাজ করছে ব্যস্ততা ও প্রত্যাশার আবহ।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির নেতৃত্বের কাছে এই সফর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর দলকে আবার মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান করার প্রয়াস হিসেবেই চট্টগ্রাম সফরকে দেখা হচ্ছে। দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম বড় মাঠের কর্মসূচি হওয়ায়, তার বক্তব্যকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা মনে করছেন, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই নগরীতে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটাতে পারলে তা জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির শক্ত অবস্থান জানান দেবে। সে কারণেই নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাড়াও পার্বত্য অঞ্চল এবং কক্সবাজার পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি বিস্তৃত করা হয়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে এবার শুধু নেতাকর্মীদের নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী শ্রেণির মানুষকে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই সফরকে ঘিরে দলীয় কাঠামোর বাইরে থেকেও সাধারণ মানুষের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর মূলত তিনটি বার্তা বহন করছে। প্রথমত, দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি মাঠের রাজনীতিতে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। দ্বিতীয়ত, চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতি একটি শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার প্রয়াসও এতে রয়েছে।

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রতীকী স্থান। ২০১২ সালে এখানেই সর্বশেষ বক্তব্য দিয়েছিলেন প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর নানা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বাস্তবতায় বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতা এই মাঠে বড় সমাবেশ করেননি। প্রায় ১৪ বছর পর একই মাঠে দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপির রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতাকেই সামনে নিয়ে আসছে।

তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে এসেছিলেন, তখন তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। সেই সফরের পর দীর্ঘ সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফর তার রাজনৈতিক ভূমিকার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতারা।

সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতির চিত্রও এবার ব্যতিক্রমী। নগরজুড়ে চলছে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, প্রচারণা ট্রাক ও স্বাগত মিছিল। বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনগুলো আলাদা আলাদা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলো তরুণদের সম্পৃক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি চালাচ্ছে। দলীয় নেতারা বলছেন, এবার সমাবেশে তরুণদের উপস্থিতি হবে চোখে পড়ার মতো।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের এক নেতা জানান, অনেক তরুণের কাছে তারেক রহমানের বক্তব্য আগামীর রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাদের আশা, তিনি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও গণতন্ত্র নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেবেন। এতে তরুণদের মধ্যে বিএনপির প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

মাঠের প্রস্তুতির দিক থেকেও সমাবেশটি বড় পরিসরের। পলোগ্রাউন্ড মাঠে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় মঞ্চের সামনে ও আশপাশে একাধিক স্তরের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, মাঠের পুরো ব্যবস্থাপনাই জনসমাগমের চাপ সামাল দেওয়ার মতো করে সাজানো হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

নিরাপত্তা ইস্যুটিও সমাবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ চট্টগ্রামে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন। গণমানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। সিলেট–হবিগঞ্জের মতো এখানেও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে। অতীতের সব জনসমাগমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

Manual3 Ad Code

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ট্রাকে করে সমাবেশের প্রচারণা চলছে, স্বাগত মিছিল হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় গানের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তরুণ ও যুবকদের সম্পৃক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীর বাইরেও তরুণ-যুবকেরা এতে অংশ নেবেন। তারা তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, এই সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, অতীতের যেকোনো সমাবেশের তুলনায় এবার মানুষের অংশগ্রহণ বেশি হবে। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক বার্তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির জন্য এই সমাবেশ একটি ‘লিটমাস টেস্ট’। দীর্ঘদিন ধরে দলটির মাঠের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় সমাবেশ করতে পারলে বিএনপি আবারও সক্রিয় বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারবে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্ব কতটা গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর, সেটিও এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পরিমাপ করা হবে।

Manual5 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code