জামায়াত ক্ষমতায় আসলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করবে: শফিকুর রহমান
জামায়াত ক্ষমতায় আসলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করবে: শফিকুর রহমান
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ির এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
Manual2 Ad Code
নদীকে জীবনের রক্তনালী হিসেবে আখ্যায়িত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অবহেলা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং সারা উত্তরাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। নদীর জীবন ফিরে এলে, নর্থবঙ্গের জীবনও ফিরে আসবে, ইনশাআল্লাহ।’
জামায়াতের আমির বলেন, প্রিয় গাইবান্ধাবাসী, এই যে আপনার পাশ দিয়ে নদীগুলো বয়ে গেছে এগুলো আল্লাহ তায়ালার রহমত। কিন্তু গত ৫৪ বছরে সরকারের অবহেলায় এই নিয়ামতগুলো রক্ষা করা হয়নি। এক সময় নদী দিয়ে জাহাজ চলত, আজ সেখানে সাধারণ নৌকাও চলতে পারছে না। নর্মল নদী হয়ে উঠেছে মরুভূমির কঙ্কাল।’
নদীগুলোকে পুনরায় জীবনদানের পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমরা আপনাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যদি জনগণ আমাদেরকে ভোটে ক্ষমতায় আনেন, প্রথমে নর্থবঙ্গের মৃত নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করব। তিস্তা, ধরলা, করতোয়া এবং ব্রহ্মপুত্র- এই চার নদীর অবস্থার দিকে নজর দেওয়া হবে।
শফিকুর রহমান নর্থবঙ্গকে একটি কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ আসমানের আপেল খাওয়ার জন্য কারো কাছে দাবি জানায়নি। তারা কঠোর পরিশ্রমী, অল্পে তুষ্ট, সরল জীবনযাপন করে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠে আগের মতো ফসল হচ্ছে না, সার ব্যবহার সত্ত্বেও জমির উর্বরতা কমে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে নদী ও মিঠা পানির অভাব।
Manual4 Ad Code
নদী ও জলসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে জাতির নিরাপত্তা ও স্বাধীনতাকেও যুক্ত করেছেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চাই না। বিশ্বের সকল সভ্য দেশ এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আমরা কারো উপর নজরদারি করতে চাই না, আর কেউ এসে আমাদের দেশের ওপর হুকুম চালাকেও চাই না। তিনি উল্লেখ করেন, ৫৪ বছরের শাসন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা দেশকে ফ্যাসিবাদী অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যা তারা আর দেখতে চান না।
শফিকুর রহমান জনগণকে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের সময় আপনাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশকে নতুন দিকে এগিয়ে নিতে হবে। গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচনও সফল হবে। তাই জনগণকে গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে।
Manual4 Ad Code
তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি সম্মান দেখাতে গণভোটে হ্যাঁ বলা আবশ্যক। আবু সাঈদ যেমন গোটা দেশকে উদ্দীপ্ত করেছেন, আমাদেরও তার জীবনদানের আদর্শে দেশকে পরিবর্তনের পথে এগোতে হবে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তিনি জনগণকে দেশের ভবিষ্যত রূপান্তরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা চাই পুরো দেশের জনগণ সচেতন হোক। নদী, জমি, পানি এবং কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে নর্থবঙ্গকে সমৃদ্ধ করা হবে। আপনারা যদি আমাদের সমর্থন দেন, আমরা দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেব।