আমার পক্ষে যারা কাজ করছে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে: মাহমুদুর রহমান মান্না
আমার পক্ষে যারা কাজ করছে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে: মাহমুদুর রহমান মান্না
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে কেতলি প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বগুড়া-২ আসন থেকে তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সে জন্য শুরু থেকেই বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করা হয়েছে।
Manual1 Ad Code
তিনি বলেন, আমি ঋণখেলাপি ছিলাম না। আমার একটি ব্যবসা ছিল, সেখানে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। নানা কারণে ব্যবসাটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। গত ১০-১৫ বছর স্বৈরাচারী শাসনের সময় আমি এলাকায় ঠিকমতো যেতে পারিনি, এমনকি দুই বছর কারাগারেও ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসাটি অন্যের হাতে থাকাকালে বড় অঙ্কের ঋণ সৃষ্টি হয়। জুলাই আন্দোলনের পর আমি নিজে ব্যবসায়ী না হয়েও দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছি। ফলে ঋণ পুনঃতফসিল (রি-শিডিউল) করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রি-শিডিউলের প্রক্রিয়া চলাকালে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে মামলা করার চিঠি দেওয়া হয়। তখনই বুঝেছিলাম, এটি একটি চক্রান্ত।
Manual4 Ad Code
তিনি জানান, পরে ব্যাংকের স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপককে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় এবং ঋণ পুনঃতফসিল করা হলেও ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় চিঠি না দেওয়ায় আদালতে যেতে হয়, এতে সময় নষ্ট হয়।
Manual6 Ad Code
মান্না অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি এলাকায় আসার পর থেকেই তিনি দেখতে পাচ্ছেন, তার পক্ষে যারা কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভোটার, কৃষক, গৃহবধূ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক ঐক্যের নারী সংগঠনের সদস্যরা সোমবার কেতলির পক্ষে প্রচারণা চালাতে গেলে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ও দেউলি এলাকায় তাদের পথরোধ করা হয়। হ্যান্ড মাইকে প্রচারণা চালালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ভয় দেখানো হয়। এমনকি থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মান্নার অভিযোগ, ব্যবসায়ীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। “তোমাকে অমুক মিছিলে দেখেছি, ১২ তারিখের পর ব্যবসা করতে পারবে না”—এমন কথাও বলা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমি চাই পরিস্থিতির পরিবর্তন হোক, যাতে সুষ্ঠু ভোট হয়। যে জিতবে, সে জিতবে। মানুষ যেন ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারে এবং ভোটের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়—এটাই গণতন্ত্র।
Manual2 Ad Code
নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা হয়নি, তবে প্রয়োজনে তা করা হবে।