বিয়ানীবাজারে ফের বেড়েছে পানের দাম। এই অঞ্চলে পানের চাহিদা বেশি থাকায় স্থানীয়দের গলা শুকানো অবস্থা। দাম বাড়ার কারনে অসন্তুষ্ট এখানকার পান বিলাসী লোকজন। উপজেলার মানুষ বেশ অতিথিপরায়ন। খাবারের পর পান দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন এখানকার মানুষের বনেদি ঐতিহ্য। চা-পানের পরও পানখিলি খেয়ে কেউ ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করেন। কেউ আবার পান চিবিয়ে দূরের পথের যাত্রী হন।
Manual5 Ad Code
জানা যায়, বিয়ানীবাজারে সাধারণত: বানিজ্যিকভাবে পান চাষ হয়না। শখের বশে বাসাবাড়ির কোন জায়গায় পান চাষ করা হয়। এ উপজেলায় প্রতিবেশী বড়লেখা উপজেলা থেকে পান আমদানি করা হয়ে থাকে। তাও আবার খাসিয়া পুঞ্জি থেকে। পান চাষীরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পানের দাম বেড়ে যায়। তখন বৃষ্টির প্রবণতা কম হওয়ায় পানের উৎপাদন হ্রাস পায়। একটি পান মোঠা আকার ধারণ করে পুর্ণরূপ নিতে মাস-দেড়মাস সময় লাগে। পান তার মুল রুপ ধারণ করে মোঠা হলে পানির দামে পাইকারী বাজারে বিক্রি করেন খাসিয়ারা।
Manual1 Ad Code
পান ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে বৃষ্টিপাত না হওয়াতে গাছ থেকে পান কুঁড়ি দেয়া বন্ধ করে দেয়। এ কারণে এ ক’মাস খাসিয়া জাতের এসব পান তেমন একটা বাজারে দেখা যায়না। তখন বেপরোয়াভাবে দাম বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে বৈশাখ মাস থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে পান কুঁড়ি দিয়ে বাড়তে শুরু করে।
পৌর শহরের পানের পাইকারী আড়ৎ ও খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ করে পানের বাজারে একলাফে কয়েকগুন বেড়েছে দাম। এক সপ্তাহ পূর্বে যেখানে খাসিয়া পান খুচরা বাজারে গোছা প্রতি বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা সেই পান এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫টাকা। ১২ পাতা পানে ১ গোছা হয়। ১২ গোছায় আবার ১ বিড়া। বিয়ানীবাজারে খাসিয়া পানের চাহিদা বেশী। আসন্ন রমজান উপলক্ষে পানের এমন দামে পান বিলাসীদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্থি বিরাজ করছে।
Manual8 Ad Code
বিয়ানীবাজারের পানসুপারীর ব্যবসায়ী কাওছার আহমদ বলেন, হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় পান-সুপারী বিক্রি কিছুটা কমেছে। স্থানীয়রা পানের সাথে সুপারী, চুন, হরেকরকম জর্দা মিশিয়ে একটি পান মুখে দেন। পান চিবিয়ে রসালো আলাপ বেশ জমিয়ে তোলেন পান ভোজনকারী লোকজন।