শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে একমাস থেকে বন্ধ আমদানি-রফতানি
শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে একমাস থেকে বন্ধ আমদানি-রফতানি
editor
প্রকাশিত জুলাই ২৭, ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
মিলাদ জয়নুল:
বিয়ানীবাজারের শেওলা স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মচাঞ্চল্য না থাকায় সংকটে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা, ভিসা জটিলতা ও ভারত সীমান্তের ওপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙ্গে পড়ার কারণে বন্দর দিয়ে আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আর রপ্তানি হচ্ছে নামমাত্র। অনেক পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশি কিছু পণ্য রপ্তানিতে ভারত সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে গতি ফিরবে স্থলবন্দরে। এই বন্দর দিয়ে সাধারণত কয়লা, পাথর, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করা হয়। আবার খাদ্যদ্রব্য, হস্তশিল্প, বেত ও তাঁতের তৈরি দ্রব্য, ফলমূল, প্রাণ পণ্য, হিমায়িত মাছ, শুঁটকি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ।
Manual4 Ad Code
Manual3 Ad Code
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে ৩৬ কোটি টাকা বেশী। বন্দরের রেভিনিউ অফিসার প্রিয় দাসী জানান, চলতি বছর এখনো পর্যন্ত আমাদের কোন লক্ষ্য দেয়া হয়নি। তাছাড়া অর্থ বছর শুরু প্রথম মাসে ভারতের সেতু ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। পুরো জুলাই মাসজুড়ে আমাদের রাজস্ব আদায় তলানিতে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রপ্তানি বাণিজ্য। ২০২৫ সালের মে মাসে স্থলবন্দর দিয়ে প্লাস্টিক ফার্নিচার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত জুস এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন কয়েকটি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। মূলত শেওলা স্থলবন্দরের রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই নির্ভর করে এসব পণ্যের ওপর।
Manual4 Ad Code
Manual2 Ad Code
স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়ার ভাষ্য, ‘ভারতের বাজার খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তবে ভারতীয় ভিসা জটিলতা কমলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। আমরা ভারতের অভ্যন্তরে নতুন নতুন বাজার ধরতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের নিষেধাজ্ঞায় থাকা পণ্যগুলোর বিষয়েও সমাধান হয়নি। শুনেছি ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। কোনো বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে কি-না তাও আমাদের অবগত করা হয়নি।’
শেওলা স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক মাহবুব হাসান বলেন, ‘এই বন্দর দিয়ে ব্যবসার পরিস্থিতি আরও বেগবান করতে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি।