এরআগে রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামের ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে ১০ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার হাজী বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহিদ আহমদ (৪২) নামের আরেক প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়।
Manual1 Ad Code
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সুহেল সরকার বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অপহরণকারীদের গ্রেফতার করার ধারালো চাকু, কেচি, লোহার রড ও স্টিক উদ্ধার করে। এরআগে ওই বাসায় জিম্মী ছিলেন সুহেল সরকার (২২) নামের আরেক যুবক। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকায় থেকে সুহেল সরকার (২২) নামের এক যুবককে ১৪–১৫ জন দুর্বৃত্ত জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাস নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে অপহরণকারীরা ধারালো চাকু ও কেচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তারা তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানান। অভিযানের সময় আসামিদের হেফাজতে থাকা আরেক ভুক্তভোগী প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) উদ্ধার করা হয়।
Manual2 Ad Code
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারদের কাছ থেকে দুই ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত কেচি, চাকু ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরদিকে, অপহরণ মামলায় ফারদিন আহমদ গ্রেফতার হওয়ায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ১৬নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক রুমান আহমদ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরীর কাছে এই অব্যাহতি পত্র প্রদান করেন।
এতে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি মনেপ্রাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শ ও নিয়ম লালন করেন। গত ৭ মার্চ এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তার সন্তানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। যদিও তার দাবি, তার সন্তান সম্পূর্ণ নির্দোষ।
Manual1 Ad Code
তিনি পত্রে আরও উল্লেখ করেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক তা তিনি চান না। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তিনি ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার সন্তান নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তবে ভবিষ্যতে দল যেন তাকে পুনরায় পদে ফেরার বিষয়ে সুবিবেচনা করে।