প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ‘একাত্তরের গল্প’ শীর্ষক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ‘একাত্তরের গল্প’ শীর্ষক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

Manual8 Ad Code

 

লন্ডন প্রতিনিধি:

লন্ডন- বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে বাংলাদেশের ৫৫তম মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘একাত্তরের গল্প’ শীর্ষক ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো স্মরণ করে এতে অংশ নেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা, তৎকালীন সময়ে ভারতের শরণার্থী শিবির ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্রিটিশ নার্স, মানবাধিকারকর্মী, ক্লাবের সদস্য শহীদ সন্তান এবং প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

গত ৮ এপ্রিল পূর্ব লন্ডনের মাইক্রো বিজনেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি আকরামুল হুসাইনের পরিচালনায় শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের শরণার্থী শিবির ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্রিটিশ নার্স ভ্যাল হার্ডিং, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্লাব সদস্য আবু মুসা হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্লাব সদস্য মোজাম্মেল হোসেন কামাল এবং শরণার্থী শিবিরে কাজ করা ক্লাব সদস্য ও অক্সফামের সাবেক কর্মকর্তা উদয় শঙ্কর দাশ।

১৯৭১ সালে পূর্ব বাংলার মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলায় নিজেকে সংযত রাখতে পারেননি ২৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নার্স ভ্যাল হার্ডিং। তিনি বলেন, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, বিশেষ করে তারুণ্যে, তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। ভারতে আশ্রয় নেওয়া যুদ্ধাহত মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের সেবা দিতে তিনি ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সর্বোচ্চ দিয়ে তাঁদের সেবা করেছেন।

Manual5 Ad Code

২০০৪ সালে তিনি সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তার পরম বন্ধু। বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি তাকে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে মানুষের সহজ-সরল ও লড়াকু মনোভাব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যাশিত সম্মান পাননি। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল, দুর্নীতি ও আমলাতন্ত্রের কারণে তা পূরণ হয়নি। তবে স্বাধীনতা দিবসে তাদের একটি ছবি স্মারক টিকিটে প্রকাশ করায় তিনি তৎকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেন কামাল বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মাঠপর্যায়ের যুদ্ধের বাস্তব গল্প জানতে পারে, যা তাদের অনুপ্রাণিত করে।

বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অক্সফামের প্রাক্তন কর্মকর্তা উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ দেশান্তরি হয়েছিলেন। স্বাধীনতার খবর শুনে ভারতে আশ্রিত মানুষরা ট্রাকে করে আনন্দ-উল্লাসে দেশে ফিরে আসেন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা শরণার্থীদের জন্য কাপড় সংগ্রহ করেছিলেন এবং রয়েল মেইল তা বিনা খরচে ভারতে পাঠিয়েছিল।

Manual4 Ad Code

প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সিনিয়র সাংবাদিক মুসলেহ উদ্দিন, ক্লাবের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি চৌধুরী আব্দুল কাদির মুরাদ এবং সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম অভিসহ অনেকে।

Manual6 Ad Code

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত পরিবারের সদস্যদের স্মৃতি তুলে ধরেন ক্লাব সদস্য ও শহীদ পরিবারের সন্তান মো. বাবুল হোসেন ও আকবর হোসেন। এছাড়া একাত্তরের দিনগুলো নিয়ে নিজের লেখা বই থেকে স্মৃতিচারণ করেন সিনিয়র সাংবাদিক রহমত আলী।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহাদ চৌধুরী বাবু, ট্রেজারার মো. আব্দুল হান্নান এবং এক্সিকিউটিভ মেম্বার সরওয়ার হোসেন ও এনাম চৌধুরী।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার এখলাছুর রহমান পাক্কু, অর্গানাইজিং ও ট্রেনিং সেক্রেটারি আলাউর রহমান শাহীন এবং মিডিয়া অ্যান্ড আইটি সেক্রেটারি ফয়সল মাহমুদ।

Manual2 Ad Code

আলোচনা শেষে ইভেন্ট সেক্রেটারি রুপি আমীনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন উর্মি মাজহার, মিসবাহ জামাল,মামুনুর রশিদ, জিয়াউর রহমান সাকলাইন, মোস্তফা কামাল মিলন, হিমিকা ইমাম, পলি রহমান, হাফসা নুর, শামিমা মিতা, নিলুফার ইয়াসমিনসহ আরও অনেকে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৭৮
৯১০১১১১৩৪১৫
১৬১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৯
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code