ডিজিটাল ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও’র বৈদেশিক ও অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত সমালোচনার জবাবে তাকে অত্যন্ত ‘দুর্বল’ ও ‘ভয়াবহ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, পোপ লিও সম্প্রতি ট্রাম্পের অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার সমালোচনা করেছিলেন, যার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে ধর্মগুরুকে লক্ষ্য করে এই কড়া মন্তব্য করেন।
Manual5 Ad Code
ট্রাম্প দাবি করেছেন, অপরাধ দমনে পোপ অত্যন্ত নমনীয় এবং বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পোপের কথিত নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
Manual3 Ad Code
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ‘পোপ লিও অপরাধের বিষয়ে অত্যন্ত দুর্বল এবং বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তিনি ভয়াবহ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়ার বিষয়টি যিনি সমর্থন করেন, এমন কোনো ধর্মগুরুকে তিনি পোপ হিসেবে দেখতে চান না।
Manual4 Ad Code
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালেও ট্রাম্প তার এই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমরা এমন একজন পোপকে পছন্দ করি না যিনি ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকাকে ঠিক মনে করেন।’ ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য ভ্যাটিকান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Manual6 Ad Code
উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প ও পোপ লিও’র মধ্যে এই বাদানুবাদ এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে। পোপ লিও মানবিক দিক বিবেচনা করে ট্রাম্পের কিছু কঠোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় প্রেসিডেন্ট এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখালেন।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, পোপের এই ধরনের মন্তব্য বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রভাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে ভ্যাটিকান এখনো ট্রাম্পের এই সরাসরি আক্রমণের জবাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল ধর্মীয় মহলেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল