মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকিকে ‘হাস্যকর’ বললেন ইরানের নৌবাহিনী প্রধান
মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকিকে ‘হাস্যকর’ বললেন ইরানের নৌবাহিনী প্রধান
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
ডিজিটাল ডেস্ক :
ইরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি।
Manual6 Ad Code
রোববার (১২ এপ্রিল) তেহরানে এক বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানের সাহসী নৌসেনাদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
Manual5 Ad Code
ট্রাম্পের এই হুশিয়ারিকে তিনি মার্কিন বাহিনীর ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ আড়ালের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ১৪:০০টা থেকে হরমুজ প্রণালিতে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইরান একে পাত্তাই দিচ্ছে না বলে তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
অ্যাডমিরাল ইরানি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর বীর সদস্যরা এই অঞ্চলে আক্রমণকারী মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রতিটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ের পর ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের মতো হুমকি দেওয়া কেবল হাস্যকরই নয়, বরং এটি তাদের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে।
Manual7 Ad Code
মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই অবরোধের ডাক দেন। ইরান মনে করে, ৪০ দিনের টানা পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর ওয়াশিংটন এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
Manual5 Ad Code
সেখানে ইরান ১০ দফা একটি প্রস্তাব পেশ করে, যেখানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের কথা জানিয়ে ইরানি প্রতিনিধি দল কোনো চুক্তি ছাড়াই তেহরানে ফিরে আসে। এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন, যার লক্ষ্য হলো ইরানকে টোল প্রদানকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া।
ইরানি নৌবাহিনী প্রধানের এই কড়া প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এই অবরোধ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাদের নৌবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জবাব দিতে সক্ষম। বিশেষ করে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে সাম্প্রতিক সফল হামলাগুলো ইরানের সামরিক মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই অবরোধ শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে বড় কোনো সামরিক সংঘাতের রূপ নেয় কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক জলসীমায় বহিরাগত কোনো শক্তির খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।