অস্ত্রের মুখে ইউপি সদস্যকে অপহরণ, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
অস্ত্রের মুখে ইউপি সদস্যকে অপহরণ, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামুতে বাড়িতে যাওয়ার পথে অস্ত্রের মুখে অপহরণের শিকার হয়েছেন ঈদগড় ইউনিয়নের আলোচিত ইউপি সদস্য রুস্তম আলী। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের পানের ছড়া ঢালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
Manual5 Ad Code
এদিকে অপহরণের নেপথ্যে পুরোনো বিরোধ নাকি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব- এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুস্তম আলী ভোরে ঈদগাঁও থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ঈদগড়ের উদ্দেশে রওনা হন। পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় পৌঁছলে আগে থেকেই ওতপেতে থাকা ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তার গতিরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
অপহৃত রুস্তম আলী ঈদগড় ইউনিয়নের খরুলিয়া মোরা এলাকার ৯নং ওয়ার্ড সদস্য।
Manual3 Ad Code
অপহরণের পরপরই পরিবারের সদস্যদের কাছে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। অপহরণকারীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে জানায়, তারা রুস্তম মেম্বারকে অপহরণ করেছে এবং আজকের মধ্যেই ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। টাকা না দিলে তাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
Manual4 Ad Code
রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী জানান, অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে তারা অপহরণের কথা স্বীকার করে এবং ৩০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যা করার হুমকিও দিয়েছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, রুস্তম আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সদস্যের দায়িত্বের আড়ালে তিনি ডাকাতি, অপহরণ এবং সীমান্ত চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, হত্যাচেষ্টাসহ ১০টির অধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে। এসব অভিযোগে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে গেছেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো পুরোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে তার পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে- রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই তাকে অপহরণ করা হয়েছে।
ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির আইসি খোরশেদ আলম জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহৃতকে উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে এবং অপহরণকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে। একইসঙ্গে এটি মুক্তিপণ নাকি পূর্ব বিরোধ বা অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব- সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কসহ আশপাশ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।