প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ খাবার টেবিলে

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ খাবার টেবিলে

Manual8 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual5 Ad Code

ঢাকার রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে বাস করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ওয়াসিম। তার মাসিক বেতন ৩২ হাজার টাকা। এই টাকায় বাসা ভাড়া, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, মায়ের নিয়মিত ওষুধ এবং খাবারসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে আগে থেকেই টানাটানিতে পড়তে হতো। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে অন্তত আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা বাড়তি খরচের চাপ কীভাবে সামাল দেবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াসিম।

শুধু ওয়াসিম নন, দেশের বেশিরভাগ মানুষই এখন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি। শুরুতেই চাপ পড়েছে তাদের খাবার টেবিলে।

মানুষ বিপাকে পড়বেই বা না কেন এ মাসেই দুই দফায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০০ টাকা। এরপর জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সবখানে। পণ্যবাহী পরিবহনের ভাড়া বেড়ে গেছে এরই মধ্যে। গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই ইচ্ছামতো বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চিন্তাভাবনাও করছে সরকার। জ্বালানির পর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে প্রথমেই খরচ বাড়ে পরিবহনে। এরপর ব্যয় বাড়ে শিল্প উৎপাদন, কৃষি সেচ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়। ফলে বাড়তে শুরু করে পণ্য ও সেবার দাম। বাড়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি, যার সবচেয়ে বড় শিকার হন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন। জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়লেও আয় থমকে থাকে একই জায়গায়।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তিন বছর মন্থর প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের সংকট, সরকারি নীতি গ্রহণের সীমিত সুযোগ এবং আস্থার সংকটের মতো বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোকে আরও ঘনীভূত করবে।

২০২২ সালের শুরুতে ডলারের বিপরীতে ৮৫ টাকার সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশীয় মুদ্রার মান কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

সরকারি-বেসরকারি খাত মিলিয়ে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই রেকর্ড পরিমাণে গম আমদানি হওয়ায় সরবরাহের ঘাটতি নেই। তবুও হঠাৎ করেই আটা ও ময়দার দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একইভাবে বেড়েছে চালের দামও। দুটোই আসলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব। মূল্যবৃদ্ধির প্রথম ধাক্কাটাই গিয়ে লেগেছে প্রতিটি পরিবারের খাবার টেবিলে। আটা, ময়দা বা চালের দাম এমন একটা সময়ে বাড়ল যখন কি না মৌসুমি উৎপাদন স্বল্পতার কারণে আগে থেকেই চড়ে আছে সবজির বাজার। যেখানে আবারও নতুন করে মূল্য বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং দাম বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

Manual2 Ad Code

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর বুধবারের দ্রব্যমূল্যের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঠিক দুদিন আগে (২১ এপ্রিল) মাঝারি মানের চাল, খোলা ও প্যাকেটের আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে। ৫৫ টাকার চাল এখন কিনতে হচ্ছে ৬০ টাকায়। একইভাবে খোলা আটায় কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা এবং প্যাকেট আটায় কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। দাম বৃদ্ধির পর খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৬ টাকায় এবং প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।

Manual8 Ad Code

অথচ কৃষি বিভাগ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় গত আমন মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদন হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রক্ষেপণ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের। তবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে এটা ১ কোটি ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টনের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে। এর সঙ্গে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সম্প্রতি প্রায় ২ লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে।

এ ছাড়া, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি খাত মিলিয়ে ৬৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬১ লাখ ৪৪ হাজার টন। এর মধ্যে সরকারি খাতে ৭ লাখ টন এবং বেসরকারি খাতে আমদানি হয়েছে ৬১ লাখ ৬০ হাজার টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত ভালো পরিস্থিতিতে কখনোই চাল ও আটার দাম বাড়ে না। কিন্তু এবারে বেড়েছে শুধু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে (যদিও এখন সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে) যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শুধু চাল ও আটার বাজারেই নয়, আগে থেকেই বাজারে অস্থিরতা রয়েছে সয়াবিন তেলের। বোতলজাত তেলের দাম না বাড়লেও বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পেঁয়াজের দাম। ঢাকার খুচরা বাজারগুলোতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল, কিন্তু জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পর ৪০ টাকার কমে মিলছে না মসলাজাতীয় এ পণ্যটি।

Manual4 Ad Code

শীত চলে যাওয়ার পর প্রতি বছরই বেড়ে যায় সবজির দাম। কৃষি বিভাগ বলছে, শুধু শীতে যে পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়, গরমের সময়ের তার তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসে সবজি। যে কারণে দামও থাকে চড়া। এবার এই চড়া দামে আরও জ্বালানি জুগিয়েছে তেলের মূল্য বৃদ্ধি। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর নানা পদের সবজিতে অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা জানান, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ে সীমিত আয়ের মানুষ। তাদের ব্যয় বেড়ে যায়, কিন্তু আয় একটা জায়গায় স্থির থাকে। তখন তারা বাধ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় ব্যয় কমিয়ে দেয়। খাবারের খরচ কমিয়ে দিলে তার বড় ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এটা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং পুষ্টিহীনতা তৈরি করতে পারে।

রামপুরা মহানগর প্রজেক্টের ওয়াসিম বলছিলেন, ‘ছেলের পছন্দমতো খাবার কিনতে পারি না। গরুর মাংসের দাম বেড়ে সাড়ে ৮শ টাকা হওয়ায় তা কেনার সুযোগ সামর্থ্য নেই। নিয়মিত খাবার যেটা কিনছি, সেটাও খুবই পরিমিত। সবজি কমিয়ে এখন আমরা ফার্মের মুরগির ডিমের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়িছে।’ কিন্তু সেই ডিমের দামও এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘খরচ বাড়লেও বেতন সে হারে যদি না বাড়ে মানুষ প্রথম তার বিনোদনের খরচ কমিয়ে আনে। সেটাতেও না সামলাতে পারলে স্বাস্থ্যের ব্যয় কমিয়ে আনে। এরপর হাত দেয় খাবারে। খাবারে কাটছাঁট করলে একটা জটিল চক্রের মধ্যে পড়তে হয় একেকটি পরিবারকে। এই অবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থাও ভালো থাকে না। অর্থাৎ এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর গিয়ে পড়ে।

পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি : সরকার ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ালেও মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনের স্বল্পতাও রয়েছে। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর সব ধরনের গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও কয়েকদিন আগে থেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরবাইকের রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া বাড়িয়েছেন চালকরা।

অন্যদিকে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লঞ্চের ভাড়া দূরত্বভেদে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন লঞ্চ মালিকরা। যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করতে রোববার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) চিঠি দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা।

দুশ্চিন্তায় কৃষকও : তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে দেশের কৃষি খাতে। বিশেষ করে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পসংশ্লিষ্ট কৃষি ব্লক বা প্রকল্প প্রয়োজনীয় সেচের অভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই এখন দাম বাড়ায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। এ ছাড়া জ্বালানির কারণে বিদ্যুতের মূল্য ও জেনারেটরের খরচ বেড়েছে। কৃষি খাতে ডিজেলের চাহিদা মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে মার্চ-এপ্রিল এই সময়টাতেই ডিজেলের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের সবচেয়ে বড় আবাদ হয় এই বোরো মৌসুমে। কৃষকরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বোরো চাষে উৎপাদন খরচ বেশ বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে বাজারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, ব্যয় বেড়েছে : জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এতে দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনে। পাশাপাশি বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চিন্তা করছে সরকার।

যুদ্ধের প্রভাবে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অস্বাভাবিক ভর্তুকির লাগাম টানতে বাসাবাড়িতে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পাশাপাশি পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। যাতে ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হ্রাস পায়। তবে বিদ্যুতের প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।

গ্রামে ফেরার চিন্তা অনেকের : করোনা মহামারীকালে আয়-রোজগার কমে যাওয়ার বিপরীতে বেড়েছিল জিনিসপত্রের ব্যয়। দৈনন্দিন খরচ মেটাতে না পেরে সে সময় ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে অনেকেই গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন। কেউবা আবার পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে একা থেকে কেনোমতে ব্যয় সামলিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি নিয়ে যে বিশঙ্খলা তৈরি হয়েছে তাতে অনেকেই আবার গ্রামে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

জ্বালানি নিয়ে চাপে সরকার : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে শুধু স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতেই অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। জ্বালানি তেলে দৈনিক গড়ে প্রায় ১০০ থেকে দেড়শ কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। চলতি বাজেটে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪২ হাজার কোটি। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই অর্থ পর্যাপ্ত নয়। আগামী জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে আরও প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছ।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করা হয়েছে। তার মতে, এই ঘাটতিকে ভিত্তি করে মূল্য সমন্বয়ের কোনো সুযোগ নেই। আগে ঘাটতির প্রকৃত কারণ ও বৈধতা নিরূপণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিতে হবে। এরপর যদি বাস্তব ঘাটতি থাকে, তবে তা নিয়ে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code