সামাজিক মাধ্যমে গুজব: তারেক রহমানই মানহানিকর পোস্টেগুলোর লক্ষ্যবস্তু
সামাজিক মাধ্যমে গুজব: তারেক রহমানই মানহানিকর পোস্টেগুলোর লক্ষ্যবস্তু
editor
প্রকাশিত জুন ১৭, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
Manual8 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে।
খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানহানিকর গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটেই চলেছে। দেশের ভেতরের চেয়ে বাইরে থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়ানোর ঘটনাই বেশি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনÑ বিটিআরসিও তা স্বীকার করেছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি জুন মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪৬৮টি পোস্টের মাধ্যমে মানহানিকর গুজব ছড়ানো হয়। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একই সময়ে গুজব ছড়ানো হয় ৫২টি লিংক পোস্টের মাধ্যমে।
Manual6 Ad Code
গুজবের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার বিরুদ্ধে উল্লিখিত সময়ে ১৯৬টি লিংকের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এসব গুজব ছড়ানোর ঘটনায় পুলিশ এ যাবৎ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
Manual3 Ad Code
Manual7 Ad Code
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর চলতি মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর ও গুজব ছড়ানো লিংকের সংখ্যা পাওয়া যায় ৪৬৮টি। একই সময়ে তার পরিবারকে নিয়ে ৫২টি গুজব ছড়ানো হয়। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে নিয়ে ৩৫টি পোস্ট, সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের নিয়ে ১৩টি পোস্ট করা হয়। এসব লিঙ্কসসহ আরও ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ লিংক মিলিয়ে মোট ৮১৩টি ফেসবুক পোস্ট লিংক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিটিআরসির কাছে পাঠানো হয়েছে।
সূত্রমতে, এর মধ্য চলতি মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গুজব ছড়ানো ১৬৩টি লিংক, তার পরিবারকে নিয়ে গুজব ছড়ানো ৮টি লিংক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে গুজব ছড়ানো ৬৯টি, তেল সংক্রান্ত ৩টি লিংক, ধর্মীয় উস্কানি সংক্রান্তে ২টি পোস্ট, আইজিপিকে নিয়ে ৯টি পোস্ট সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের নিয়ে ১টি পোস্ট এবং অন্যান্য ১১টি পোস্ট লিংকসহ মোট ২৬৬টি পোস্ট লিংক বিটিআরসি সরিয়ে দিয়েছে।
একটি-দুটি ঘটনা নয়, অহরহ এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কখনও আক্রান্ত হচ্ছেন সরকারপ্রধান, সিনিয়র মন্ত্রী, এমপি, কখনও আবার বিরোধী দলের নেতারাও। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ হচ্ছে মানসিক রোগÑ যারা গুজব বা অপতথ্যের শিকার হচ্ছেন তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এদিকে কিছু সংবাদমাধ্যমে তথ্য যাচাই না করে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আদলে কার্ড বানিয়ে ভুয়া তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর নিয়েও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষ তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরিতে লিপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংকেও বিতর্কিত করার জন্য সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। রক্ষা পাচ্ছেন না সংবাদিকরাও। এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা রোগ প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়। ইসলামে গুজব একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি তার পরও ইসলামী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গুজবে লিপ্ত হচ্ছেন ।
সরকার গঠনের আগে : সরকার গঠনের আগেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দল হিসেবে বিএনপি দেশে সবচেয়ে বেশি গুজবের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে মোট ১৩৩টি গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে দল হিসেবে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩৬০টি গুজব শনাক্ত করা হয়েছে।
ওই সময়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে গুজবের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত সামাজিক মাধ্যম এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার।
সাম্প্রতিক ঘটনা : গত ৯ মের এক ঘটনা। অজ্ঞাত এক নারীর আপত্তিকর ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবি! ক্যাপশন ‘অনেক দিন পর বান্ধবীর সঙ্গে দেখা’! এডিট করে এই আপত্তিকর ছবিটি একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। শুধু তাই নয়, সেই ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতেও শেয়ার করেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আজিজুল হক। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নজরে এলে তারা প্রতিবাদ জানান। পরে আজিজুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা যায়, তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাকে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক মাধ্যমে তার পক্ষ নিয়ে সরব হয় সরকারের প্রতিপক্ষ। এটাকেও দাবি করা হয় বাকস্বাধীনতা হিসেবে।
ভারতের ভিডিও বাংলাদেশের বলে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি : ভারতের একটি ভিডিওকে কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে নির্যাতনের বলে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ। ৩ জুন সংবাদমাধ্যমকে ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে নির্যাতনের দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার শনাক্ত করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের রাজস্থানের।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, হালে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল, সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়।
ফেসবুকে গুজব ছড়ালে যে শাস্তি : ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য মাধ্যমের পোস্টে ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয় এসব গুজব। সেসব পোস্ট অনেকেই জেনে বা না-জেনে শেয়ার করছেন, যা একসময় ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। এসব কারণে অনিরাপদ হয়ে উঠছে এ মাধ্যমটি।
মিথ্যা তথ্য ছড়ালে প্রথমে তিন বছরের জেলের বিধান রয়েছে। এরপর আবারও আইন ভঙ্গ করলে পর্যায়ক্রমে শাস্তির বিধানও বাড়বে।
ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যমে মানহানিকর, বিভ্রান্তিমূলক, অশ্লীল, আক্রমণাত্মক, জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা বা যৌনতা নিয়ে করা যেকোনো অমূলক পোস্টই সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এক্ষেত্রে অপরাধীকে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। আর আদালতের রায়ে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানো অপরাধীদের।