প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান যুদ্ধ বন্ধে এক পাতার সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

editor
প্রকাশিত মে ৬, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধ বন্ধে এক পাতার সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

Manual7 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
যুদ্ধ বন্ধ ও বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি করতে ইরানের সঙ্গে এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস এমনটাই মনে করছে। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ইরানের জবাব আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর দুই পক্ষ এবারই চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েক শ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে। এ ছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা সব বিধিনিষেধ তুলে নেবে।

Manual7 Ad Code

এ সমঝোতা স্মারকের অনেক শর্তই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করছে। ফলে আবারও যুদ্ধ শুরু বা দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্মুখযুদ্ধ থামলেও শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান না-ও হতে পারে।

Manual5 Ad Code

হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কয়েক ভাগে বিভক্ত। তাই দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হতে পারে। এমনকি প্রাথমিকভাবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে কি না, তা নিয়ে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এর আগে বিভিন্ন আলোচনা ও বর্তমান যুদ্ধ চলাকালেও মার্কিন কর্মকর্তারা একাধিকবার চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিই আলোর মুখ দেখেনি।

তবে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানের ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন। মূলত আলোচনায় অগ্রগতির কারণেই তিনি এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নেপথ্যের খবর হলো, এক পৃষ্ঠার এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক নিয়ে এখন দর–কষাকষি চলছে। ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমঝোতা স্মারকের বর্তমান খসড়া অনুযায়ী, এই অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করা হবে। এরপর শুরু হবে ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনা। এ সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তারিত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।

Manual7 Ad Code

দুটি সূত্রের দেওয়া তথ্য বলছে, এই আলোচনা ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওই ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দেওয়া বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন বাহিনী আবার অবরোধ আরোপ করতে পারবে, অথবা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার মেয়াদ নিয়ে এখন মূল দর–কষাকষি চলছে। তিনটি সূত্র বলছে, এই মেয়াদ হবে অন্তত ১২ বছর। তবে একটি সূত্র জানায়, এটি ১৫ বছর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের দাবিতে অটল ছিল।

সূত্রটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে এমন একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যাতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নিয়ম ভাঙলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বেড়ে যাবে। আর এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্ন মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।

সমঝোতা স্মারকে ইরান অঙ্গীকার করবে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এ–সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডেও জড়াবে না তারা। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান যেন কোনো ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করে, এমন একটি ধারা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করছে।

ওই কর্মকর্তার মতে, ইরান কঠোর তদারকি ব্যবস্থার আওতায় থাকতেও রাজি হবে। ফলে জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা যেকোনো সময় ইরানি স্থাপনায় আকস্মিক পরিদর্শন (স্ন্যাপ ইন্সপেকশন) করতে পারবেন।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলার অর্থ পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেবে ওয়াশিংটন।

সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র দাবি করেছে, ইরান তাদের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে রাজি হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। তবে তেহরান এত দিন সেটা মানতে চায়নি। একটি সূত্রের দাবি, এসব তেজস্ক্রিয় পদার্থ যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

Manual2 Ad Code

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার বলেন, ‘আমাদের এক দিনেই মূল চুক্তিটি লিখে ফেলতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।’

রুবিও আরও বলেন, ‘পুরো বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও কৌশলগত। তবে আমাদের এমন একটি কূটনৈতিক সমাধান দরকার, যেখানে আলোচনার বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকবে। চুক্তিটি ফলপ্রসূ করতে হলে শুরুতেই তারা কতটা ছাড় দিতে রাজি, তা–ও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।’

তবে রুবিও ইরানের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনকে ‘উন্মাদ’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁরা শেষ পর্যন্ত আদৌ কোনো চুক্তিতে আসবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code