স্পোর্টস ডেস্ক :
নিঃসন্দেহে কার্লো আনচেলত্তির কাঁধের বোঝাটা অনেক ভারী, বারবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফেরা ব্রাজিলকে তার ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে পরিচালনা করতে হবে। যে কারণে চোটের ধাক্কা সামলে দলে পছন্দের সমন্বয় গড়া, তাদের মাঝে ভারসাম্য তৈরি এবং প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় খুঁজে নেওয়ার কাজটা অনেক সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে তাকে। এর সঙ্গে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রকে দলে রাখার চাপ তো আছে–ই। তবুও নিজের অবস্থান থেকে একটু নড়চড় হননি আনচেলত্তি।
Manual2 Ad Code
১৮ মে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন ব্রাজিল কোচ। যার জন্য বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে আগেই ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল জমা দিয়েছেন। সেই দলে নেইমারও আছেন বলে খবর ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের। কিন্তু চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে সান্তোসের এই তারকার ফর্ম এবং ফিটনেস শতভাগ প্রয়োজন বলে আবারও কড়া বার্তা দিলেন আনচেলত্তি। হোক নেইমার ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কিংবা ভক্তদের আবেগের চূড়ান্ত কেন্দ্রবিন্দু!
Manual1 Ad Code
বিশ্বকাপের দল গঠন নিয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘যখন আপনাকে পছন্দ করতে হবে, তখন আপনার অনেক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সবসময়ই যে প্রতিভা দেখিয়ে আসছেন, তার সুবাদে নেইমার দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। কিন্তু তার সমস্যা আছে এবং তিনি তা কাটিয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। সম্প্রতি তিনি অনেক উন্নতি করেছেন এবং খেলছেন নিয়মিত। নিশ্চিতভাবে এটি আমার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত হবে না, আমাদের সকল বিষয় খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
ইতালিয়ান এই গ্রেট কোচ ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগেই শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়েছিলেন। রেকর্ড পাঁচবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিও রয়েছে তার দখলে, এর বাইরে খেলোয়াড় হিসেবে জেতেন দু’বার। কিন্তু এবার ব্রাজিল দলকে বিশ্বকাপে পরিচালনা করাটা আনচেলত্তির জন্য ভিন্ন মেজাজ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। যা নিয়ে তিনি রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) সদরদপ্তর রিও ডি জেনেইরোতে বসে।
Manual5 Ad Code
ব্রাজিলের দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বেশ বিশ্লেষণ ও বিতর্কের মুখে পড়ার বেশ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে নেইমারের নাম অন্তর্ভুক্তির পক্ষে তার সতীর্থরা প্রকাশ্যে মতামত জানিয়েছেন, অন্যদিকে সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে ভালোবাসা ও শঙ্কার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যা নিয়ে আনচেলত্তি’র অভিমত, ‘আমি খুব ভালো করেই জানি নেইমার শুধু সাধারণ মানুষের কাছেই নয়, খেলোয়াড়দের কাছেও অত্যন্ত প্রিয়। এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেইমারকে দলে নিলে সেটিকে ঘিরে কী ধরনের পরিবেশ তৈরি হবে, সেটিও আমাদের ভাবতে হয়। এমন নয় যে আমি ড্রেসিংরুমে কোনো বোমা ফাটাতে যাচ্ছি। সে সবার কাছে খুব পছন্দের, খুবই প্রিয় একজন।’
অন্য ফুটবলারদের মতামত দেওয়ায় কোনো সমস্যা দেখেন না আনচেলত্তি, একইসঙ্গে ড্রেসিংরুমেও এসবের প্রভাব থাকবে না বলে ধারণা তার, ‘খেলোয়াড়রা তাদের মতামত দেবে, সেটাই স্বাভাবিক। যারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছে তাদের সবার প্রতিই আমি কৃতজ্ঞ। সবাইকে ধন্যবাদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঠিক ব্যক্তি এবং এ বিষয়ে সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি আমি নিজেই। দলের ভেতরের পরিবেশে এর কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করি না। পরিবেশ খুব ইতিবাচক, খুব পরিচ্ছন্ন। স্কোয়াডে যে খেলোয়াড়ই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত সেটি ইতিবাচক ও পরিচ্ছন্নই থাকবে। কিন্তু বাইরের পরিবেশ এবং গণমাধ্যম কী বলবে, সেটা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’
সাম্প্রতিক সময়ে নেইমারের ফিটনেসে উন্নতি হয়েছে। সেটা স্বীকার করছেন ব্রাজিল কোচও, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তার ফিটনেস অনেক উন্নত হয়েছে। সে সম্প্রতি কয়েকটি খুব ভালো ম্যাচ খেলেছে। তার ফিটনেস বেড়েছে। এখন সে ম্যাচে উচ্চমাত্রার তীব্রতা ধরে রাখতে পারছে। তবে ম্যাচ ভেদে পরিস্থিতিও ভিন্ন হয়…।’
নেইমারকে নিয়ে কিংবা দলের বাইরে রেখে স্কোয়াড গড়া নিয়ে নিজের ওপরই পূর্ণ দায়ভার নিলেন আনচেলত্তি, ‘নেইমারকে দলে নেওয়ার জন্য কেউ আমাকে চাপ দেয়নি। আমার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। সিদ্ধান্তটি শতভাগ পেশাদার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। একজন ফুটবলার হিসেবে সে কেমন পারফর্ম করছে, আমি শুধু সেটাই বিবেচনা করব। অন্য কিছু নয়। আমি কি নিখুঁত একটি স্কোয়াড গড়তে পারব? অসম্ভব! তবে অন্যরা যা করতে পারে তার চেয়ে কম ভুল নিয়ে একটি স্কোয়াড গঠন করতে পারব। এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’