ডিসি–ইউএনওকে রিটার্নিং কর্মকর্তা চান না জনপ্রতিনিধিরা, দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে সবাই
ডিসি–ইউএনওকে রিটার্নিং কর্মকর্তা চান না জনপ্রতিনিধিরা, দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে সবাই
editor
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৮, ২০২৪, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
Manual8 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা। প্রয়োজনে তাঁরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন থেকে দলীয় প্রতীকে বাদ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
Manual8 Ad Code
রোববার জাতীয় সংসদে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তারা এসব দাবি জানান। বৈঠকে সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকারের ২০ জন প্রতিনিধি ছিলেন।
Manual4 Ad Code
বৈঠক শেষে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা সবাই বলেছেন নির্দলীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। যে পদ্ধতিতে আছে, সেই পদ্ধতিতেই যেন হয়, সংসদীয় পদ্ধতিতে যেন না হয়। তাঁরা নারী প্রতিনিধিত্ব অর্থবহ করতে ঘূর্ণমান পদ্ধতির কথা বলেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অর্থবহ করতে সব স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যেন হয় সেটি বলেছেন। অনেকেই স্থানীয় সরকার ভোট বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারে অধীনেই সংসদ নির্বাচনের আগে বা পরে করার জন্য বলেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা সব সময় সব নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা জন্য বলেছেন। এ জন্য তাঁরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকদের পরিবর্তে ইসি কর্মকর্তাদের চান তাঁরা।
ড. বদিউল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পদচ্যুত করায় মনঃক্ষুণ্ন, সবাই প্রায় অসন্তুষ্ট। কিন্তু সবাই চান সত্যিকারের স্থানীয় সরকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয়। কর্তৃত্ববাদী সরকার হয়েছিল, সেখানে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হতো। একই সঙ্গে তাঁরা স্থানীয় সরকার সংসদ সদস্য এবং কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত যেন হয় সেটা চেয়েছেন।
Manual6 Ad Code
এ ছাড়া উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদ বিলুপ্ত করে নারীদের অন্যভাবে নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিনিধিরা। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপক দাবি উঠেছে।
জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনে এসে সম্মানিত বোধ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এই সুন্দর ভবনে যেন কখনোই আর অসুন্দর ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে না পারেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের কাজ শেষ করা হবে জানিয়ে ড. মজুমদার বলেন, আমরা সময়মতো কাজ শেষ করতে চাই। আমরা ৩১ ডিসেম্বর মধ্যেই সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে শেষ করতে চাই। শেষ পর্যন্ত আমরা প্রস্তাব নেব।
বৈঠক শেষে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন (বুলবুল) সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চাই। কমিশন যেন কঠোর হয়। আমরা মতামত দিয়েছি, মানুষ যেন অল্প সময়ের মধ্যে ভোট দিতে পারে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসি কর্মকর্তা যেন হয়। আমরা ডিসি বা ইউএনওকে চাই না। নির্বাচনের সময় বিচার বিভাগ ছাড়া সব ইসির নিয়ন্ত্রণে চাই। আমরা তাড়াতাড়ি নির্বাচনের কথা বলেছি।
সূত্র জানায়, বৈঠকে জনপ্রতিনিধি ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত এসেছে; নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ হয়, দিনের ভোট যেন রাতে না হয়; আগের সরকারের আমলের কেউ যেন পুনর্বহাল হতে না পারে; সংরক্ষিত নারী আসনে ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে ভোট; মেয়রের ক্ষমতা কমানোর জন্য প্যানেল থেকে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে স্বাক্ষরের ক্ষমতা দেওয়া; উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের ক্ষমতায়িত করা; ভোটের সময় আঙুলের ছাপ নেওয়া, যাতে একজনের ভোট আরেকজন দিতে না পারে; স্থানীয় সরকারের জন্য সমন্বিত আইন করা; কোনো ভোটার তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থান করলে, এমনকি প্রবাসে থাকলেও ই–ভোটিং–এর মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ রাখা; নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ করবে সেগুলো যাতে পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলো বহাল রাখে।