স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি এবং বিশ্বমঞ্চের অন্যতম সফল দল ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক এই দলটিকে ভালোবেসে ডাকেন ‘লে ব্লুজ’ (Les Bleus) নামে। ফরাসি ভাষায় এর সহজ অর্থ হলো ‘নীলরা’ বা ‘নীল জার্সিধারীরা’। ঘরের মাঠে ঐতিহ্যগতভাবে নীল জার্সি পরে খেলার কারণেই বিশ্ব ফুটবলে ফরাসিরা এই অনন্য পরিচিতি পেয়েছে।
Manual8 Ad Code
ফ্রান্সের ফুটবলারদের এই নীল জার্সি পরে মাঠে নামার ইতিহাস কিন্তু আজকের নয়, এটি শত বছরেরও বেশি পুরোনো। ১৯০৮ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এক আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফ্রান্স দল প্রথমবার নীল রঙের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নেমেছিল। সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ফরাসি ফুটবলের সমার্থক হয়ে আছে এই নীল রঙ।
ফরাসি ফুটবলে এই নীল রঙের অনুপ্রেরণা কিন্তু আকাশ থেকে আসেনি, এসেছে তাদের জাতীয় পতাকা ‘ত্রিবর্ণ’ (Tricolour) থেকে। ফ্রান্সের জাতীয় পতাকায় রয়েছে তিনটি রঙ—নীল, সাদা ও লাল; যা দেশটির ইতিহাস, ফরাসি বিপ্লবের সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। সাধারণত যখন ফ্রান্স দল মাঠে নামে, তখন তাদের পুরো কিট বা পোশাকে এই পতাকারই প্রতিফলন ঘটে। তারা পরে নীল রঙের জার্সি, সাদা রঙের শর্টস এবং লাল রঙের মোজা। ফরাসি ইতিহাসে নীল রঙ একসময় রাজপরিবারের ঐতিহ্য ছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা ফরাসি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
Manual3 Ad Code
একটি মজার বিষয় হলো, ‘লে ব্লুজ’ নামটি কিন্তু কেবল ফ্রান্সের ফুটবল দলের একার সম্পত্তি নয়। ফ্রান্সের রাগবি, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবলসহ অন্যান্য প্রায় সব জাতীয় দলকেই এই একই নামে ডাকা হয়। তবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে এই ডাকনামটি আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে ফরাসি ফুটবল দলের মাধ্যমেই।
ফরাসি ফুটবলের যত সোনালি অধ্যায় আর গৌরবময় মুহূর্ত, তার সবই জড়িয়ে আছে এই নীল জার্সির সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে জিনেদিন জিদানের হাত ধরে প্রথম বিশ্বকাপ জয় কিংবা ২০১৮ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের হাত ধরে দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়—সব সাফল্যই এসেছে এই ‘লে ব্লুজ’ পরিচয়ে।
Manual5 Ad Code
তাই ফুটবল বিশ্বে ‘লে ব্লুজ’ কেবল একটি সাধারণ ডাকনাম বা জার্সির রঙ নয়; এটি একই সাথে ফ্রান্সের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য, জাতীয় আত্মমর্যাদা এবং ফুটবল মাঠের শ্রেষ্ঠত্বের এক জীবন্ত প্রতীক।