বাংলাদেশ বিমানে নিষিদ্ধ ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমা!
বাংলাদেশ বিমানে নিষিদ্ধ ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমা!
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
বিনোদন ডেস্ক:
দেশীয় চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের কালজয়ী দুই সিনেমা ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ প্রদর্শন বন্ধ করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিমান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং দেশে-বিদেশে সমাদৃত এই চলচ্চিত্র দুটি দীর্ঘকাল ধরে বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল।
Manual1 Ad Code
হঠাৎ করেই মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল তার ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, এক অজ্ঞাত কারণে চলচ্চিত্র দুটি নিজেদের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টে প্রদর্শন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিমান। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ সিনেমা দুটি প্রদর্শন বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি সংস্থাটি। এ বিষয়ে কথা বলতে নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
উভয় চলচ্চিত্রই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ধ্রুপদী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এবং ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লালসালু’ সিনেমাটি আটটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। গ্রামীণ সমাজে যুগ যুগ ধরে চলা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় ভীতিকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের ভণ্ডামি এবং প্রতারণার জাল বিস্তারের গল্প নিয়ে এটি নির্মিত। চলচ্চিত্রে শিক্ষিত যুবক আক্কাসের স্কুল বানানোর প্রয়াস নস্যাৎ করা থেকে শুরু করে গ্রামের মাজার সংস্কৃতির আগ্রাসন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার প্রতিবাদী চেতনায় মজিদের মিথ্যার সাম্রাজ্য থমকে যাওয়ার ছবি ফুটে উঠেছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, মুনিরা ইউসুফ মেমী, চাঁদনী, রওশন জামিল, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মৌসুমী, তামান্না ইয়াসমিন, মাসুদ আলী খান ও সাইদুর রহমান বয়াতি প্রমুখ।
Manual6 Ad Code
অন্যদিকে, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে মুক্তি পাওয়া তানভীর মোকাম্মেলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমাটি মোট সাতটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নড়াইলের চিত্রা নদীর তীরের একটি হিন্দু পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে এ চলচ্চিত্রে। ভিটেমাটি আঁকড়ে থাকার লড়াই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইয়ুববিরোধী মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাদলের মৃত্যু এবং দাঙ্গার শিকার হয়ে বাসন্তীর আত্মাহুতির পর শেষ পর্যন্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়া পরিবারের দেশত্যাগের করুণ বাস্তবতায় সিনেমাটি নির্মিত। এতে অভিনয় করেছেন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকির আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবী।