স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না বিয়ানীবাজারের কয়েকশ’ত যুবক। দক্ষতা অর্জনের পরও চাকরি কিংবা আত্মকর্মসংস্থানের পথ সুগম না হওয়ায় অনেকেই বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ ফিরে গেছেন আগের পেশায়, কেউ প্রবাসে আবার কেউ পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিবছর সেলাই, ইলেকট্রিক্যাল, কৃষি, গবাদিপশু পালন, মৎস্য খামার, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ শেষে অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থীর জন্য কর্মসংস্থানের কার্যকর ব্যবস্থা, সহজ শর্তে ঋণ কিংবা বাজার-সংযোগ নিশ্চিত না হওয়ায় অর্জিত দক্ষতা বাস্তবে কাজে লাগাতে পারছেন না তারা। ফলে উপজেলায় শিক্ষিত ও দক্ষ বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রশিক্ষণের সনদ হাতে থাকলেও কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক যুবক আজো পরিবার ও সমাজের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
Manual2 Ad Code
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক শামিম আহমদ বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যবসা শুরু করার মতো প্রয়োজনীয় মূলধন না থাকায় শেষ পর্যন্ত আবার কৃষিকাজে ফিরে যেতে হয়েছে। অপর যুবক আরমান আহমেদ বলেন, ছয় মাস কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো সুযোগ পাইনি। এখন বেকার অবস্থায় বাড়িতেই সময় কাটছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল প্রশিক্ষণ দিলেই বেকারত্ব দূর হবে না। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং বেসরকারি খাতে চাকরির সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য সফল হবে না।
Manual4 Ad Code
বিয়ানীবাজার উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রনধীর দেবনাথ অবসরজনিত ছুটিতে থাকায় এই পদটি শূন্য আছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মুজমদার বলেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং ঋণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির সুযোগ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বিয়ানীবাজারের বেকার যুবকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। অন্যথায় প্রশিক্ষণের সনদ শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে, আর বেকারত্বের বোঝা বহন করতে হবে হাজারো যুবককে।