‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্বও চাইবেন, দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না
‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্বও চাইবেন, দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না
editor
প্রকাশিত আগস্ট ৮, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে বারবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় দেশটির সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
Manual4 Ad Code
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ভারত সমর্থন না করার কথা বললেও তাকে বিশ্বমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ভারত কি শেখ হাসিনাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াটা সমর্থন করে? তারপরে ভারত বললো- উনি যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমরা (ভারত) নাই। এভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাবি সাদা দল ও ইউট্যাব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। এই আন্তঃনির্ভরতাকে শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারবো না। আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে পারস্পরিক মর্যাদা ও শ্রদ্ধা এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবো।
Manual8 Ad Code
শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন- দুটো বিপরীতমুখী। ভারতের নীতিনির্ধারক ও সরকার বিষয়টি বুঝবে বলে আশা প্রকাশ করি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএনপি নেতাদের তুলনা করার সুযোগ নেই। তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করে সেখানকার আইন মেনে রাজনীতি করেছেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের (তারেক রহমান) পার্থক্য হলো, তারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের আরও পার্থক্য রয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং হিন্দন বিমানবন্দরে তাকে মন্ত্রী পর্যায়ের একজন ব্যক্তি অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এ বিষয়গুলোও বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে ভিন্ন।
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ থেকে ভারত তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না।
Manual1 Ad Code
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো পতিত স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট, গণহত্যার জন্য যিনি দায়ী, যিনি এই দেশে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন- তাকে কি ডেমোক্রেটিক কালচারের কোনো নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে? এই প্রশ্ন আমাদের রইলো।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ও চলমান মামলার প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং আরও মামলা চলমান। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোনো অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশও করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতে হাসিনার বক্তব্য এলাউ করছে, একই সঙ্গে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইছে- দুইটা তো একসঙ্গে যায় না।
শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে বারবার বিশ্বমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা ওইটাও সমর্থন করি না যে আপনারা ওখানে বসে একজন ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী যিনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন- তাকে বারবার এই সুযোগ দেবেন বিশ্ব মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং তারাও এ অবস্থানের প্রতিবাদ করছেন।