ক্যারিয়ারে দীর্ঘদিন এক ধাঁচের কাজ করার পর এবার নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপনের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। গতানুগতিক ছক থেকে বেরিয়ে ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের প্রতিই এখন তার মূল মনোযোগ। ‘অটবি’ চলচ্চিত্রে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপ ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি।
Manual5 Ad Code
‘অটবি’ সিনেমায় নিজের উপস্থিতি নিয়ে মধুমিতা বলেন, ‘এতদিন দর্শক আমাকে যেভাবে দেখে এসেছেন, এই ছবিতে একেবারেই তেমনটা পাবেন না। চরিত্রটির ভেতরে গভীর এক মনস্তাত্ত্বিক দিক রয়েছে, যা প্রথম থেকেই আমাকে আকর্ষণ করেছিল। কোনো পরিচালক যে আমাকে এমন একটি জটিল চরিত্রে কল্পনা করতে পেরেছেন, এটাই আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। কারণ একজন শিল্পী হিসেবে আমি এক জায়গায় আটকে থাকতে চাই না।’
একসময় কাজের পেছনে নিরবচ্ছিন্ন সময় দিলেও বর্তমানে নিজের জীবনধারা ও ভাবনায় এসেছে রূপান্তর। কাজের চাপ কমিয়ে নির্বাচনমুখী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, অতিমাত্রায় কাজের কারণে অতীতে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনকে সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। মধুমিতার ভাষ্য, ‘বাবা-মা সবসময়ই আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অগ্রাধিকার বদলায় এটা আমি উপলব্ধি করেছি। শুধু পেশাগত সাফল্যই জীবন নয়; যাদের আমরা ভালোবাসি, সেই প্রিয় মানুষ ও পরিবারের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
Manual6 Ad Code
ব্যক্তিগত সম্পর্কের মূলভিত্তি নিয়েও কথা বলেন এই তারকা। তার মতে, দুজন মানুষের মধ্যে মতের অমিল থাকা স্বাভাবিক, তবে গভীর বোঝাপড়া ও সঙ্গতি থাকাটা জরুরি। ‘অটবি’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক অভিব্যক্তির ভারসাম্য রক্ষা করাটাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেছেন মধুমিতা।
চরিত্রটির অস্বাভাবিক রূপ ফুটিয়ে তুলতে চোখের দৃষ্টি ও শরীরের ভাষায় বৈচিত্র্য আনতে হয়েছে তাকে। দৃশ্যায়ন ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন এই কাজের জন্য। ক্যারিয়ারের প্রায় ১৭-১৮ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় ভক্তদের ভালোবাসাকেই নিজের সেরা অর্জন মনে করেন তিনি। পাশাপাশি দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক সমালোচনাকেও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে চান এই অভিনেত্রী।
Manual4 Ad Code
দর্শকদের উদ্দেশ্যে মধুমিতা বলেন, ‘আমি একটু আড়ালে গেলে যখন দর্শক প্রশ্ন তোলেন ‘মধুমিতা কোথায়?’, তখন মনে হয় এটাই আমার প্রাপ্তি। তবে শুধু প্রশংসাই নয়, আমার ভুলগুলোও দর্শক ধরিয়ে দিক। দর্শক আমার কাজ পছন্দ হলে যেমন ভালোবাসবেন, ভুল হলে সমালোচনাও করবেন তাদের এই যুক্ততাই আমার কাছে সবচেয়ে অর্থবহ।’