প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

নারীর সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষকের আপত্তিকর আচরণ, ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
নারীর সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষকের আপত্তিকর আচরণ, ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা

Manual4 Ad Code

 

নেত্রকোণা প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার এন আকন্দ কামিল মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ ও লাইভ মনিটরিংয়ে দৃশ্যটি ধরা পড়ার পর মাদরাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৭ আগস্ট (সোমবার) বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে মাদরাসার একটি কক্ষে বোরকা পরিহিত এক নারীর সাথে টেবিলের দুই পাশে বসে কথা বলছেন শিক্ষক মাওলানা এহসানুল হক। ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষক টেবিল ছেড়ে ওই নারীর চেয়ারের পেছনে যান এবং সেখানে কিছু সময় অবস্থান করেন। ১১টা ৪৪ মিনিটে তিনি আবারও ওই নারীর কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ান এবং আপত্তিকর আচরণ করেন।

একইভাবে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটের আরেকটি ফুটেজেও ওই নারীর উপস্থিতিতে দরজার দিকে খেয়াল রেখে তাকে বারবার ওই নারীর সান্নিধ্যে যেতে দেখা যায়।

Manual1 Ad Code

মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন যে, সিসিটিভির লাইভ ফিডে তারা সরাসরি এই দৃশ্য দেখেছেন। তাদের দাবি, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত এবং তা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিক্ষকরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

 

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও মাদরাসা প্রশাসন এতে শিথিলতা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের একটি অংশের দাবি, অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্য ঘটনাটি প্রশাসনিকভাবে সমাধান না করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এন আকন্দ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, সাধারণত রাস্তাঘাটে বা বিভিন্ন স্থানে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী বা কেউ থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না। সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধকরণ এবং তাকে বহিষ্কারের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখতে কোনো বাধা নেই।

Manual7 Ad Code

মাদরাসার প্রভাষক নাজনিন নাহার বলেন, ছুটির পর অফিস কক্ষের মনিটরের দিকে তাকিয়ে দেখি একটি রুমে এক নারী ও পুরুষের কিছু অপ্রীতিকর আচরণ। বিষয়টি নজরে আসে। সে সময় অনার্স পরীক্ষা চলছিল। বিষয়টি আমি মুবাশশেরা ম্যাডামকে দেখাই। কিছুক্ষণ পর তারা বের হলে ম্যাডামও বিষয়টি লক্ষ্য করেন।

 

Manual7 Ad Code

শিক্ষক মেহেবুবে আলম জেবিন বলেন, সিসিটিভিতে যা দেখলাম, তা জনসমক্ষে বলার মতো নয়—খুবই আপত্তিকর ও নিকৃষ্ট অবস্থা। একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

তবে অভিযুক্ত এহসানুল হক দাবি করেন, অপর শিক্ষক হেদায়েত উল্ল্যাহ এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে ভিডিওটি তৈরি করে তাকে হেনস্থা করছেন।

Manual1 Ad Code

অন্যদিকে মো. হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, এক ম্যাডামের অনুরোধে আমি বিষয়টি দেখার চেষ্টা করি এবং পরে প্রিন্সিপাল স্যারকে বিষয়টি অবহিত করি। পরবর্তীতে উল্টো আমাকেই অভিযুক্ত করা হচ্ছে কেন আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code