বিশ্বের সেরা’ যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, কী আছে এটিতে?
বিশ্বের সেরা’ যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, কী আছে এটিতে?
editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চীন থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমান জে-১০সিই কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কিনতে সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে জে-১০সিই-এর কাছাকাছি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি যুদ্ধবিমান থাকলেও বাংলাদেশ কেন এটিই কিনছে এ নিয়ে চলছে আলোচনা। একই ক্যাটাগরির আমেরিকান এফ-১৬ এবং ভারতীয় তেজাসের তুলনায় চীনের এই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমানটি ঠিক কোন জায়গায় এগিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে চলছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ।
ভারতের তৈরি তেজাস একটি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা হালকা ওজনের যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে জে-১০সিই একটি মাঝারি ওজনের যুদ্ধবিমান। আকারের কারণে তেজাসের অস্ত্র বহনের ক্ষমতা এবং জ্বালানি ধারণক্ষমতা জে-১০সিই-এর তুলনায় বেশ কম। এ ছাড়া আকাশযুদ্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ মিসাইল প্রযুক্তি। জে-১০সিই-তে থাকা চীনের পিএল-১৫ মিসাইল ২০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতে সক্ষম। যা ভারতের তেজাসের চেয়ে অনেক বেশি।
আমেরিকান এফ-১৬ বিশ্বের অন্যতম পরীক্ষিত যুদ্ধবিমান হলেও আধুনিক জে-১০সিই কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি প্রযুক্তিগত সুবিধা পাচ্ছে। জে-১০সিই-তে রয়েছে ডেল্টা-ক্যানার্ড ডানা প্রযুক্তি। এটি ডগফাইটের সময় বিমানটিকে খুব দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতা দেয়, যা এফ-১৬-এ কিছুটা সীমিত।
Manual1 Ad Code
আমেরিকার এফ-১৬ ব্লকে ব্যবহৃত এআইএম-১২০ডি মিসাইলের চেয়ে চীনের পিএল-১৫ মিসাইলের রেঞ্জ এবং রাডার ট্র্যাকিং প্রযুক্তি অত্যন্ত নিখুঁত। পাশাপাশি এফ-১৬ কেনার ক্ষেত্রে নানা ধরনের ভূ-রাজনৈতিক শর্তাবলী ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ থাকে, যা চীনের তৈরি জে-১০সিই-এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য।
Manual8 Ad Code
চীন দাবি করে থাকে, এটি মার্কিন এফ-১৬ এবং ভারতের তেজাসের চেয়ে ভালো এবং একইসঙ্গে বিশ্বের সেরা ক্যাটাগরির যুদ্ধবিমান।
আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বিমান বাহিনীকে একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে বাংলাদেশ চীনের তৈরি এই সর্বাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। যেহেতু বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দীর্ঘ দিন ধরে চীনা প্রযুক্তির সঙ্গে অভ্যস্ত, তাই এই বিমান বহরে যুক্ত হলে পাইলটদের রূপান্তর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনাগত খরচ অন্য দেশের যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক কমে আসবে।
Manual3 Ad Code
উল্লেখ্য মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) তথ্য পিআইডির সম্মেলনকক্ষে সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক এবং তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সেখানে তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চীন থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য সামরিক যুদ্ধযান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের রূপান্তরিত স্বকীয় পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এই ধরনের সামরিক কেনাকাটায় মনোযোগী হয়েছে।
Manual1 Ad Code
এমআরসিএ (জে-১০সিই) ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার (১১২৯) কেনার ক্ষেত্রে সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে এবং পাকিস্তান সেটা করেছিল চীনে তৈরি এমআরসিএ জে-১০ যুদ্ধবিমান দিয়ে। রাফালকে বলা হয় ৪ দশমিক ৫ জেনারেশনের আধুনিক যুদ্ধবিমান। তার সঙ্গে চীনের জে-১০ বিমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভালো করেছে, ভারতের বিমান ভূপাতিত করেছে। বাংলাদেশ এদিকে মনোযোগ দিয়েছে। আশা করা যায়, আমরা এদিকে ভালোভাবে এগিয়ে যাবো।’