নেপালে ট্র্যাজেডি: নিখোঁজদের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন স্বজনরা
নেপালে ট্র্যাজেডি: নিখোঁজদের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন স্বজনরা
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
নিউজ ডেক্স:
নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজরা আর বেঁচে নেই, এমনটা ধরে নিয়েই বিভিন্ন এলাকায় প্রতীকী শেষকৃত্য করছেন পরিবারের সদস্যরা। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর প্রকাশ করেছে।
নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি রাসুয়ায় নিখোঁজ স্বজনদের আত্মার শান্তির জন্য কাশ-কুশ বা পবিত্র ঘাস দিয়ে প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে শেষকৃত্য করা হচ্ছে। বুধবার রাজধানী কাঠমান্ডুর বাগমতী নদীর তীরে পশুপতি আর্যঘাট মন্দিরে এমন কয়েক ডজন প্রতীকী মরদেহের গণদাহ করা হয়।
Manual1 Ad Code
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জেলা চিতওয়ানে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর সেগুলো দাফন করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মরদেহের কারণে প্রতিটি মরদেহ আলাদাভাবে শনাক্ত ও সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বন্যায় কয়েকটি জেলায় মানুষের পাশাপাশি তাদের ঘরবাড়িও ভেসে গেছে। ফলে অনেক পরিবার স্বজন হারানোর পর শেষকৃত্য বা শোক পালনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গাটুকুও হারিয়েছে। সবকিছু হারিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে কাঠমান্ডুতে আসা অনেক পরিবারও শেষকৃত্য পালনের জন্য সরকারি স্থাপনায় পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবারও নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার সদস্যরা দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজও করছেন। বন্যার পর সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
Manual1 Ad Code
এদিকে প্রতিবেশী চীনের তিব্বত অঞ্চলে বন্যায় ২১ জন নিহত এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। দুই দেশে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৩ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৫৭ জন, যাদের মধ্যে ৮৪৪ জন বিদেশি নাগরিক।
Manual4 Ad Code
গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহ ভেঙে যায়। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নেমে ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষের স্রোত তৈরি হয়। সেই স্রোত সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে নেমে এসে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি করে।
Manual1 Ad Code
এতে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও কাভ্রে জেলা এবং কাঠমান্ডু উপত্যকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই দুর্যোগে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিজাং বা তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রও মাটির নিচে চাপা পড়ে।