বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ফুটপাত। অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর এই পরিচ্ছন্ন অবস্থা। ছবিটি বৃহস্পতিবার সকালে তোলা-আগামী প্রজন্ম/
Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বিয়ানীবাজার পৌরশহরে যানজট নিরসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। যতত্রত গাড়ি পার্কিং করলে জরিমানা আদায় করাসহ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যেখানে-সেখানে থাকা সবজির দোকান সরিয়ে দেয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে দফায়-দফায় অভিযান চালাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক উম্মে হাবিবা মজুমদার।
বুধবার রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকদের নিয়ে যানজট নিরসনের লক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
বিগত কয়েক বছর থেকে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে সেখানে ব্যবসা করে আসছিলেন অনেকে। ফলে শহরের সৌন্দর্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যানজট লেগেই থাকতো। প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হতেন নানা কাজে শহরে আশা কয়েক হাজার মানুষ।
Manual2 Ad Code
ফুটপাত ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচলের কথা থাকলেও সেটি বঞ্চিত ছিলেন বিয়ানীবাজার পৌর শহরের বাসিন্দারা। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দখমুক্ত হল বিয়ানীবাজার পৌর শহর।
জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌরশহরে যানজটের অন্যতম কারণ ফুটপাত দখল, ভ্রাম্যমান সবজি ব্যবসা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংসহ দোকানের বাড়তি সামনা রাখা। এতে দক্ষিণ বাজার থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি যানজটের কবলে পড়ে কলেজ রোড পয়েন্ট এলাকা। এই সড়কের উপর আল-আমিন সুপার মার্কেটের সামনে অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সার স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। দক্ষিণ বাজারেও সড়কের উপর অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডের কারনে দূর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও সড়কের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ঢাকাগামী দূরপাল্লার গাড়ি। সকালে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মাছ নিয়ে আসা ট্রাকগুলো মধ্যবাজারে থামানো হয়। ফলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমেই বৃদ্ধি পায় যানজট। যা নিয়ন্ত্রনে ট্রাফিক পুলিশকেও বেগ পেতে হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ইউএনও।
Manual6 Ad Code
শুরুতেই উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের উদ্যাগে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় সিএনটি অটোরিক্সা চালকদের সাথে বৈঠকে বসে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রশাসন। সিএনজি পরিবহণ শ্রমিক নেতা জবরুল ইসলাম জানান, সভায় যথাস্থানে গাড়ি পার্কিং, যাত্রী নামিয়ে দিয়ে সড়কের উপর অবস্থান না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সন্ধ্যার পরও যাত্রী ওঠানামা করতে স্ট্যান্ড ছেড়ে না আসার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি জানান, টমটম সীমিত করার বিষয়ে সিএনজি শ্রমিকরা দাবী উত্তাপন করেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবীবা মজুমদার জানান, শহরের যানজট অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দূরীকরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সবাইকে সচেতনভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র গাড়ি না রাখার বিষয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কেউ ফুটপাত দখল করতে না পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে। আশা করি ব্যাবসায়ীরা বিয়ানীবাজারকে একটি সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।