নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের রায়নগরের আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেসন- ‘পিবিআই’। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট সফরকালে নিহত সাত্তার দম্পতির দুই মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু স্বজনদের নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। এসময় মন্ত্রী তাদেরকে সুষ্ঠ তদন্তের আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, এ ব্যাপারে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পক্ষপাত মুক্ত তদন্ত হবে। তার এমন আশ্বাসে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের ব্যাপারে আশায় বুক বাঁধেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, ওই দিন সিলেট সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে বিষয়টি তুলে ধরেন সিলেট-৬ আসনের সাংসদ ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছ থেকে মামলাটির অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন ও দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।মানচিত্র
পরে ঢাকায় ফেরার পথে আবারও বিষয়টি তার সামনে তুলে ধরেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তখন মন্ত্রী পুলিশ মহাপরিদর্শককে কল দিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
Manual7 Ad Code
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে গেল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নগরীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেরা নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন বলেছেন সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির দুই মেয়ে।
তবে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ সম্পর্কে তিনি এখনো কিছু জানেন না।
Manual8 Ad Code
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় খুন হন ব্যবসায়ী সাত্তার এমএ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের গৃহকর্মী। ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয় রঙ মিস্ত্রি বাবুলকে। তিনি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধীতে জানিয়েছেন টাকার জন্য চুরি করতে গিয়ে তাদেরকে খুন করেছেন। তবে তার এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় নিহতদের স্বজনরা। তারা এর নেপথ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরছেন। এমনকি, মরহুম সাত্তারের মেয়ে সুরাইয়া বাদী হয়ে থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন সেখানেও সে প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।