স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর রেললাইনে স্ত্রীর মরদেহ পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে শুয়েছিলেন। পরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। স্বামীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। নিহত দম্পতি হলেন- ওই গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫)। হরেন্দ্রনাথ বাড়ির পাশের একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রীও নিয়মিত পূজার কাজে যুক্ত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজেদের ফসলি জমিতে তৈরি করা শ্মশানে পাশাপাশি চিতায় তাদের দাহ করা হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর তার মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিলেন নিত্য বালা। বাড়িতে তখন আত্মীয়-স্বজনের ভিড় ছিল। মঙ্গলবার ভোরে কোনো একসময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নিত্য বালা। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে সকালে কয়েকজন আত্মীয় রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় রেললাইনে তার মরদেহ দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
Manual2 Ad Code
নিত্য বালার ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমার বাবা অনেক দিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। আমার মা বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। তিনি সারারাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছিলেন। আমরাও সবাই জেগে ছিলাম। বাসা ভর্তি আত্মীয়-স্বজন ছিল।
তিনি বলেন, সকালে মা বাড়ির বাইরে বের হন। পরে অনেকক্ষণ তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আত্মীয়-স্বজনেরা সকালে ব্রাশ করার জন্য রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। তখন তারা লাইনে একজনকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখা যায়, আমার মা মারা গেছেন। পরে আমরা তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসি।
রবীন চন্দ্র বর্মণ আরও বলেন, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ দাহ করা হয়েছে।
Manual4 Ad Code
প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, তারা দুজনই আমার কাকা-কাকি। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, কাকি কাকাকে অনেক ভালোবাসতেন। কাকা মারা যাওয়ার পর তার শোক সইতে না পেরে কাকিও চলে গেলেন।
আটোয়ারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পরিবারের লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে সৎকার করেছেন। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।