স্টাফ রিপোর্টার:
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
Manual2 Ad Code
বৃহস্পতিবার তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার ৩২৩ নম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। তবে মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তিনি নিজেও অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Manual2 Ad Code
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ঘুষ বা দুর্নীতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীর পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ এ ধরনের ঘটনায় মাত্র চারজন এমপি পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে মিষ্টি ছাড়া বাকি তিনজনই অভিযোগের দায়ে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন। এছাড়াও এ১৯৯১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কেলেঙ্কারি, অনিয়ম, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে ৯ জন মন্ত্রীর পদত্যাগের নজির রয়েছে। যেমন সার সংকটে কৃষক নিহত হওয়া, বস্তি উচ্ছেদ, রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিদ্যুৎসংকটের মতো কারণে কয়েকজন মন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়েছিল।
Manual6 Ad Code
নাইকোর গাড়ি কেলেঙ্কারি
২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্সেসের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি এবং বিদেশ ভ্রমণের জন্য অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নাইকোর সঙ্গে গ্যাসসংক্রান্ত বিরোধের পটভূমিতে গাড়িটি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
ফেনী গ্যাসফিল্ড থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কেনার চুক্তি করতে নাইকোকে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে এই ঘুষ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করে দুদক। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে পদত্যাগ করতে বলেন এবং ২০০৫ সালের ১৮ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। পরে নাইকো-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগও উঠে আসে। মোশাররফ অবশ্য গাড়িটি ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
মন্ত্রীর এপিএসের কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধার
২০১২ সালের এপ্রিলে আওয়ামী লীগ সরকারের রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিব ও দুই রেল কর্মকর্তাকে বহনকারী একটি গাড়ি থেকে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধার হয়। ওই অর্থ রেলে নিয়োগের ঘুষের টাকা বলে অভিযোগ ওঠে। তীব্র সমালোচনার মুখে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রেলমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ঘটনার রাজনৈতিক দায় নেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগ গ্রহণ না করে তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করেন। পরে রেলওয়ের তদন্তে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগ
২০১২ সালের ২৩ জুলাই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটিতে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে অর্থায়ন বাতিল করার পর তার ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ে। আবুল হোসেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যাওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন; রাষ্ট্রপতি পরে তা গ্রহণ করেন। তবে বরাবরই তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে কানাডার একটি আদালত পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়নি বলে দায় দেয়।