হবিগঞ্জে ৮৯০ কোটি টাকার বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন নেই ৬ বছর!
হবিগঞ্জে ৮৯০ কোটি টাকার বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন নেই ৬ বছর!
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
Manual2 Ad Code
মাধবপুর প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজিবাজার ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্র টি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) মালিকানাধীন একটি সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারেনি ছয় বছরেও।
Manual3 Ad Code
জানা যায়, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। পরে পরীক্ষামূলকভাবে কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও টারবাইনের ব্লেড ভেঙে যাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন নতুন ব্লেড এনে কেন্দ্রটি চালুর অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চায়না কেবল করপোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
পরবর্তীতে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এ সময় ভেঙে যায় টারবাইনের একটি ব্লেড। এরপর থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রটির। ত্রুটিপূর্ণ ব্লেডের পরিবর্তে নতুন ব্লেড আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
Manual1 Ad Code
১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ কে এম মফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, ব্লেডটি আমেরিকা থেকে আনা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের জুনে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে।
এরই মধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কেবল করপোরেশন লিমিটেডকে। কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বাকি অর্থ আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ এবং পরীক্ষামূলক চালুর সময় ব্লেড ভেঙে যাওয়ার পর নতুন ব্লেড আনতে এত সময় লাগার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Manual7 Ad Code
এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রটি একবার পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়। তবে টারবাইনের ব্লেড বারবার ভেঙে যাওয়ার কারণে এটি নিয়মিত উৎপাদনে যেতে পারেনি। বারবার মেরামতের পরও ত্রুটি দূর না হওয়ায় সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। চালুর পর থেকে চার বছরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সব মিলিয়ে মাত্র ৬৭ দিন (১৬১০ ঘণ্টা) সচল ছিল। প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে না আসায় জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে না ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় প্রকল্পের ব্যয় ও কাঙ্ক্ষিত সুফল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।